বিশেষ অর্থনৈতিক প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
ভারতের আর্থিক ক্ষেত্রের ইতিহাসে সর্বকালের বৃহত্তম প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)-এর সবুজ সংকেত মিলল। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিবিআই ব্যাঙ্ক (IDBI Bank)-এর মেগা বিলগ্নীকরণ ও স্বত্ব হস্তান্তরে চূড়ান্ত অনুমোদন দিল কেন্দ্র। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটি (CCEA)-র বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা ‘ফেয়ারফ্যাক্স ফিন্যান্সিয়াল হোল্ডিংস’ (Fairfax Financial Holdings) মোট ৫২,৮৭৮ কোটি টাকায় আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ ইক্যুইটি শেয়ার কিনে ব্যাঙ্কের পরিচালন নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ শুক্রবার ফের বিক্ষোভ! দিল্লির কনট প্লেসে ‘তেরঙা ওড়াও’ অভিযানের ডাক দিপকের
হস্তান্তরের রূপরেখা ও শেয়ার বিন্যাস
বিগত কয়েক বছর ধরে ঝুলে থাকা আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া এই ক্যাবিনেট সম্মতির মাধ্যমে তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল।
-
বর্তমান মালিকানা: বিক্রির আগে আইডিবিআই ব্যাঙ্কে ভারতীয় জীবন বিমা নিগম (LIC)-এর ৪৯.২৪ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ৪৫.৪৮ শতাংশ শেয়ার (মোট ৯৪.৭২%) ছিল।
-
হস্তান্তর পরবর্তী বিন্যাস: সরকার ও এলআইসি যৌথভাবে তাদের হাতে থাকা ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার ফেয়ারফ্যাক্সের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে।
-
অবশিষ্ট শেয়ার: বিক্রির পরও যৌথভাবে কেন্দ্র ও এলআইসি-র হাতে ব্যাঙ্কের ৩৪ শতাংশ ইক্যুইটি শেয়ার থেকে যাবে। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাঙ্কের শেয়ার দর বাড়লে তার আর্থিক সুফল পাবে কেন্দ্র ও এলআইসি।
-
শেয়ার মূল্য: দীর্ঘ পর্যালোচনা, মূল্যায়ন ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের পর প্রতি শেয়ারের বিক্রয়মূল্য ৮১ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এ কি বলছেন? তবে কি বাংলাদেশের মদত আছে! নেহা বললেন, ‘পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশই’
গ্রাহকদের সুরক্ষা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মালিকানা হস্তান্তরের ফলে সাধারণ আমানতকারী বা ব্যাঙ্কের বিদ্যমান গ্রাহকদের পরিষেবায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
-
প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক পরিচালনা: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা থাকা ফেয়ারফ্যাক্স গোষ্ঠীর হাতে দায়িত্ব যাওয়ায় আইডিবিআই ব্যাঙ্কে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরিচালন ব্যবস্থা যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-
আর্থিক ভিত্তি মজবুত: নতুন বিদেশি বেসরকারি পুঁজি আসার ফলে ব্যাঙ্কের সার্বিক আর্থিক ভিত আরও শক্তিশালী হবে, যা ভারতের সামগ্রিক ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামোর বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে।
আইডিবিআই ব্যাঙ্কের এই সফল বিসরকারিকরণ ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি বিরাট মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।


