আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দুর্গাপুজোর আবহেই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু ও সনাতনীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মা দুর্গাকে ‘শক্তি ও সাহসের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করে দুর্গাপূজার শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জমানায় বাংলাদেশে ঘটে চলা ধারাবাহিক সংখ্যালঘু নিগ্রহের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের বার্তা দিয়ে হাসিনার আহ্বান—এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ বা ভয় থাকবে না।
আরও পড়ুনঃ ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে দেশের বৃহত্তম বিলগ্নীকরণ!; ৫২,৮৭৮ কোটি টাকায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে IDBI Bank
‘২০২৪-এর ৫ অগস্টের পর পরিস্থিতি শোচনীয়’
দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছাবার্তায় শেখ হাসিনা দাবি করেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে তাঁর দল ও সরকার বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি মেনেই পরিচালিত হয়েছে। সেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখা হতো না। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট তাঁর সরকারের পতন এবং মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
সংখ্যালঘুদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন:
-
ধারাবাহিক অত্যাচার: অন্তর্বর্তী শাসনের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর আক্রমণ থামেনি। প্রতিমা ভাঙচুর, সম্পত্তি লুটপাট, হিন্দু মহিলাদের ওপর অত্যাচার এবং দিনের আলোয় হত্যার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
-
ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা: উৎসবের আবহেও দেশের সনাতনী সম্প্রদায়কে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনী ছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
চিহ্নময় প্রভুর প্রসঙ্গ ও ইউনুস সরকারকে নিশানা
বাংলাদেশে অনাচারের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সম্প্রতি মায়ের শেষকৃত্যে সনাতনী নেতা ও ধর্মগুরু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (চিন্ময় প্রভু)-এর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ প্রধান।
হাসিনা প্রশ্ন তোলেন:
“মায়ের শেষকৃত্যে চিন্ময় প্রভুর হাহাকারের ছবিটা আজ পুরো দেশের অসহায়তার মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে এটা কী ধরনের সরকার চলছে, যেখানে আসল অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, আর এক ধর্মগুরুকে ভিত্তিহীনভাবে জেলে আটকে রাখা হয়?“
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ধর্মের ভিত্তিতে এই ধরনের বর্বরতা বা অনাচারের জন্য বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম করেনি।
আরও পড়ুনঃ এ কি বলছেন? তবে কি বাংলাদেশের মদত আছে! নেহা বললেন, ‘পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশই’
ভেদাভেদহীন বাংলাদেশ গড়ার ডাক
চিঠিতে অশুভ শক্তির পতনের আশাপ্রকাশ করে হাসিনা বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তাঁর বার্তা, বৈষম্যহীন এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে—
১. যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে আতঙ্কে কাটাতে হবে না।
২. যেখানে বিশেষ পুলিশি বা সামরিক নিরাপত্তার ভরসায় পুজো-উৎসব উদযাপন করতে হবে না।
৩. যেখানে কোনো মাকে তাঁর সন্তানের ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য দুশ্চিন্তায় বুক বাঁধতে হবে না।
৪. প্রতিটি ধর্মের মানুষ যেখানে সমানাধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবেন।


