বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
উৎসবের মরশুমে কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক স্থানে বামপন্থী দলগুলির দুর্গোৎসব কেন্দ্রিক বইয়ের স্টল বা বুকস্টলে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। গত মহাসপ্তমীর রাতেই যাদবপুর এলাকায় বামেদের দুটি বুকস্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একের পর এক এই ধরণের ঘটনায় অবশেষে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রবীণ সদস্য তথা অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বামেদের বইয়ের স্টলে বারবার হামলার এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘নিন্দনীয়’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
কাদের এত সাহস? প্রশ্ন অর্থমন্ত্রীর
পরপর কয়েকটি জায়গায় বামেদের বুকস্টলে হামলার ঘটনায় নিজের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনাটি ঘটার পর আমরা লজ্জায় মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছি। এটি একটা জায়গায় ঘটলে হয়তো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যেত, কিন্তু তিন-চারটি ভিন্ন জায়গায় একই ভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
বামেদের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে বিরোধের কথা স্বীকার করেও তিনি বলেন, বামেদের সঙ্গে আমাদের নীতিগত ও আদর্শগত বৈরিতা বা বিবাদ থাকতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে কাউকে বই বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। যারা এই কাজ করছে, তারা কারা? তাদের এই অধিকার বা সাহস কে দিয়েছে? এই ঘটনা আমাকে গভীর লজ্জিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও যেন রাজ্যজুড়ে এমন ঘটনা আর কোথাও না ঘটে।
উল্লেখ্য, এই ভাঙচুরের নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে বামেদের একাংশ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, আমাদের নাম জড়িয়ে এসব কারা করছে এবং কাদের প্রশ্রয়ে তাদের এই সাহস হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর পুরোনো মন্তব্যের জের, পাল্টা কটাক্ষ শতরূপ ঘোষের
অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য সামনে আসতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশিষ্ট সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যকে কটাক্ষ করে শতরূপ ঘোষ দাবি করেন, এই সংস্কৃতির সূচনা অনেক আগেই রাজ্য বিধানসভার ভেতর থেকে শুরু হয়েছিল।
শতরূপের অভিযোগ, আজ থেকে প্রায় এক মাস আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে পুজোয় বামেদের কোনো বুকস্টল করতে দেওয়া হবে না। বাম নেতার প্রশ্ন, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত তো সেদিন বিধানসভাতেই উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী যখন প্রকাশ্যে এই নির্দেশ বা হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন, তখন স্বপনবাবু উঠে দাঁড়িয়ে কেন প্রতিবাদ বা বিরোধিতা করেননি?
চোরবাগান বিপর্যয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার টানাটানির মাঝেই পুজো মণ্ডপের সামনে রাজনৈতিক বইয়ের স্টল কেন্দ্র করে তৃণমূল, বিজেপি ও বামেদের এই তিসীমানা তরজা উৎসবা আবহকে আরও বেশ গরম করে তুলেছে।


