Wednesday, 21 October, 2026
21 October
HomeকলকাতাDurga Puja 2026: চিনির চড়া দাম ও দুধের মূল্যবৃদ্ধির জেরে বিজয়ায় মিষ্টির...

Durga Puja 2026: চিনির চড়া দাম ও দুধের মূল্যবৃদ্ধির জেরে বিজয়ায় মিষ্টির মুখেও ছ্যাঁকা, তবুও মিষ্টিমুখের আয়োজনে কমতি নেই বাঙালির

শত আর্থিক প্রতিকূলতা আর চড়া দাম সত্ত্বেও বাঙালির কাছে বিজয়ার দিনে মিষ্টি কেনা আবশ্যক, যেখানে কোনো আপস চলে না।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাঙালির বিজয়া মানেই মিষ্টিমুখ। মিহিদানা, সীতাভোগ থেকে রসগোল্লা, গজা কিংবা নানান রঙের ফিউশন মিষ্টি— বিজয়ার উদযাপনের টেবিলে রকমারি খাবারের কোনো কমতি থাকে না। কিন্তু আচমকাই আকাশছোঁয়া দামের জেরে এবারের বিজয়ায় সাধারণ গৃহস্থের কাছে মিষ্টির স্বাদ খানিকটা যেন পানসে ঠেকছে। উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে দেশজুড়ে লাগাতার বেড়েছিল চিনির দাম, আর একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়েছিল দুধের পারদ। আর তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিশিল্পে। রসগোল্লা থেকে শুরু করে সন্দেশ, এমনকি বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সীতাভোগ ও মিহিদানার দামও অনেকটাই বেড়েছে। আর পুজোর এই কদিন সেই দাম আরও খানিকটা চড়েছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমেছে মিষ্টির আকৃতি বা সাইজও।

আরও পড়ুনঃ  দেবীবরণের কুলোর খোঁজে বাঙালি; বদলের হাওয়ায় ‘মডার্ন’ হয়েছে বরণডালা

কলকাতার নামী ব্র্যান্ডেড মিষ্টির দোকান তো বটেই, এমনকি মফস্বলের ছোটখাটো দোকানগুলিতেও ১০-১২ টাকার কমে ভালো মানের মিষ্টি খুঁজে পাওয়া প্রায় মুশকিল। ফলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বিজয়ার মিষ্টি কেনা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৪৮ টাকা কেজি দরের চিনি কয়েক মাস ধরেই খুচরা বাজারে পৌঁছে গেছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। যার সরাসরি ধাক্কা লেগেছে মিষ্টির হাঁড়িতে। পুজো শুরুর আগেই মিষ্টির দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছিল, যা পুজোর বাজারে এসে আরও স্ফীত হয়েছে। শুধু মিষ্টিই নয়, ময়দা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দামও বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজয়ার অন্যতম অনুষঙ্গ কুচো নিমকি ও ছোট গজার দামেও প্রভাব পড়েছে।

বিজয়া উপলক্ষে শহরের ছোট-বড় প্রায় সব মিষ্টির দোকানেই নানান ফিউশন মিষ্টির আয়োজন করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের বিশেষ মিষ্টির দাম সাধারণ দিনের চেয়ে অনেকটাই বেশি থাকে, যা উৎসবের মরশুমে আরও খানিকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দাম যতই বাড়ুক না কেন, বিজয়ার এই বিশেষ দিনে আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীদের মিষ্টিমুখ করাতে বাঙালি পিছপা হয় না। যদিও শহরাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি দেওয়ার পুরোনো সংস্কৃতিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে, তবুও মফস্বল ও গ্রাম বাংলায় এই রেওয়াজ আজও সমানভাবে টিকে রয়েছে। আর সেই কারণেই দশমীর সকাল থেকেই রাজ্যের মিষ্টির দোকানগুলিতে লম্বা লাইন পড়ার কথা। সেই আন্দাজ করেই কারিগররা সারারাত জেগে দোকানে মিষ্টি তৈরির কাজ চালিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  দেবীবরণের কুলোর খোঁজে বাঙালি; বদলের হাওয়ায় ‘মডার্ন’ হয়েছে বরণডালা

এই সময়ে মিষ্টির কারিগরদেরও বাড়তি মজুরি দিতে হয় বলে জানাচ্ছেন দোকানদারেরা। বর্ধমানের এক মিষ্টি ব্যবসায়ীর কথায়, প্ৰতিটি রসগোল্লার দাম আগেই ১ থেকে ২ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল, যা পুজোর মরশুমে আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাস দুয়েক আগেই যে মিহিদানা ও সাধারণ সীতাভোগের দাম ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে ২৭০ টাকা হয়েছিল, পুজোর বাজারে তা বেড়ে প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, উন্নত মানের সীতাভোগের দামও প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ টাকা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মাগো এ বার বিদায় তবে, আসছে বছর আবার হবে! শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা

অন্যদিকে কলকাতার এক মিষ্টি ব্যবসায়ীর মতে, পুজোর দিনগুলিতে মিষ্টির দোকানগুলিতে দুধের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই সময়ে যে কোনো মূল্যে কারবারিরা তাঁদের প্রয়োজনের তাগিদে দুধ সংগ্রহ করতে বাধ্য হন, যার ফলে হু হু করে চড়ে যায় দুধের দাম। তবুও শত আর্থিক প্রতিকূলতা আর চড়া দাম সত্ত্বেও বাঙালির কাছে বিজয়ার দিনে মিষ্টি কেনা আবশ্যক, যেখানে কোনো আপস চলে না। তাই আজ সকাল থেকেই মিষ্টির দোকানগুলিতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন ব্যবসায়ীরাও।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন