বিশেষ জাতীয় প্রতিবেদন:
ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন ও পুলিশের ধরপাকড়ের আবহে কেন্দ্র সরকারকে একহাত নিলেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। মুম্বইয়ের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরাসরি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থান-পতনের উদাহরণ টেনে সরকারকে সতর্ক করেছেন। সোনমের সাফ কথা, জনগণের শান্তিপূর্ণ ও সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাধা দিলে বা অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াতে পারে, তা ওই প্রতিবেশী দেশগুলির রাজনৈতিক পটপরিবর্তন দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ মোক্ষম চাল বিরোধীদের, জ্ঞানেশ কুমারকে জনসমক্ষে এবার ‘গদি থেকে নামাবে’ INDIA জোট!
সংসদের সামনে বিক্ষোভ ও যন্তর মন্তরের প্রসঙ্গ
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বইয়ের ওই অনুষ্ঠানে গণতন্ত্র ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নরওয়ে, সুইডেন এবং ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশগুলির প্রসঙ্গ তোলেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, বিশ্বের অনেক দেশেই হাসিমুখে সংসদ ভবনের সামনেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়।
এই প্রসঙ্গে দিল্লির যন্তর মন্তরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। ওয়াংচুক আক্ষেপের সুরে বলেন, ভারতে প্রতিবাদের নির্ধারিত জায়গা সংসদ ভবন থেকে বহু দূরে অবস্থিত। এমনকি যখন নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তর ছিল, সেটিও সংসদ থেকে যথেষ্ট দূরত্বেই ছিল। প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছর নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জাতীয় স্তরে প্রতিবাদ জানিয়ে এই যন্তর মন্তরেই একটানা অনশন আন্দোলন চালিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক, যা জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
বিক্ষোভ দমনে ধরপাকড় ও বিরোধীদের আন্দোলন
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন এবং তা দমনে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি জোরালো করা হয়েছে। দিল্লির রাজপথে এই আন্দোলন ঠেকাতে প্রশাসন ধরপাকড় চালাচ্ছে এবং বহু প্রতিবাদীকে আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ স্পেনের বার্সেলোনায় ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার উদাহরণ ও প্রতিবাদের অধিকার
এই দমনপীড়নের আবহেই সরকারকে নরওয়ে ও সুইডেনের মতো গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “দেখুন, যখন বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয় না, তখন কী ভয়াবহ অবস্থা হয়! শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট উদাহরণ আমাদের সকলের সামনেই রয়েছে।”
জনগণের ক্ষোভকে আইনি ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রকাশের সুযোগ না দিয়ে যদি গায়ের জোরে তা দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়, তবে তার পরিণাম কতটা মারাত্মক হতে পারে, সাম্প্রতিক শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট কিংবা বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে সেই বার্তাই দিলেন এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ।


