বিশেষ জাতীয় ও আইনি প্রতিবেদন:
শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা বা ‘পিস বন্ড’ (Peace Bond)-এ স্বাক্ষর করায় ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকসহ দলের চার নেতার রাজনৈতিক কেরিয়ার কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কণ্ডেয় কাটজু। তাঁর মতে, পিস বন্ডে স্বাক্ষর করে অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্কা শিন্ডে—এই চার নেতাই সাধারণ মানুষের চোখে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা চিরতরে হারিয়েছেন। তবে এর বিপরীতে আইসার (AISA) নেত্রী নেহা বোরার দৃঢ়তা ও আইনি লড়াইয়ের প্রশংসা করে তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়েছেন বিচারপতি কাটজু।
আরও পড়ুনঃ ভয়ঙ্কর কাণ্ড জম্মুতে! দাউ দাউ করে জ্বলল শিব মার্কেট
‘পিস বন্ড মানেই রাজনৈতিক আত্মহত্যা’: কাটজু
মার্কণ্ডেয় কাটজুর মতে, পিস বন্ডে স্বাক্ষর করার অর্থ হলো আগামী দিনে আর কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার একপ্রকার মুচলেকা দেওয়া। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্কা শিন্ডে—সিজেপির এই চার শীর্ষ নেতাই পিস বন্ডে স্বাক্ষর করেছেন। এর সহজ অর্থ হলো, তাঁরা আর রাজপথে নামতে পারবেন না। সামান্য প্রতিবাদ করলেই পুলিশ বন্ড ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তাঁদের দীর্ঘ মেয়াদে জেলে পুরে দেবে।”
ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক দমনের সঙ্গে এই পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি আরও বলেন, পিস বন্ড স্বাক্ষরকারী এই চার নেতাকে জনগণ এখন ‘কাপুরুষ’ হিসেবেই দেখবে, যাঁরা জেলের ভয়ে আপস করেছেন। ব্রিটিশ জমানায় যেমন বন্দিরা ক্ষমা চেয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন, এই নেতাদের পরিণতিও তেমনই হয়েছে বলে তোপ দাগেন তিনি। সিজেপির এই শীর্ষ চার নেতৃত্বকে ‘গ্যাং অফ ফোর’ বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি সুপ্রিম কোর্টের এই প্রাক্তন বিচারপতি।
নেহা বোরার প্রশংসায় পঞ্চমুখ কাটজু
সিজেপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা করলেও আইসার সভানেত্রী নেহা বোরার সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কণ্ডেয় কাটজু। শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিবাদ প্রদর্শন করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার—এই যুক্তিতে নেহা বোরার পিস বন্ডে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করার সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি।
প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
প্রসঙ্গত, গত ১৬ অক্টোবর দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তেরঙা’ কর্মসূচি পালনের প্রাক্কালে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ও নেহা বোরাকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়। পরবর্তীতে মুচলেকা বা পিস বন্ড স্বাক্ষর করে অভিজিৎ মুক্তি পেলেও, যন্তর মন্তরে প্রবেশ করার পর গ্রেপ্তার হওয়া সৌরভ ও আশুতোষকেও একই পথে হাঁটতে হয়েছিল।
তবে দলের বাকি নেতারা বন্ডের শর্ত মেনে নিলেও, নেহা বোরা আপস না করে পিস বন্ডের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। প্রাক্তন বিচারপতি কাটজুর এই মন্তব্য এবং আইনি লড়াইয়ের এই জল গড়ায় জাতীয় রাজনীতি ও ছাত্র আন্দোলনের অঙ্গনে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।


