বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি গভীর নিম্নচাপ এবং তার সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় রূপ নিয়ে আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট ও সতর্কতা অত্যন্ত স্পষ্ট। এই সিস্টেমটি নিয়ে সাম্প্রতিক তথ্যগুলির একটি সামগ্রিক বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ঘূর্ণিঝড়ের রূপ ও নামকরণ: পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থানরত নিম্নচাপটি তীব্র শক্তি সঞ্চয় করে ইতিমধ্যেই ‘অতি গভীর নিম্নচাপে’ (Deep Depression) পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি খুব শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে এবং পরবর্তীতে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ (Very Severe Cyclonic Storm) রূপ নিতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী এই ঝড়টি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’ (Cyclone Arnab), যার নামকরণ করেছে বাংলাদেশ।
২. সম্ভাব্য স্থলভাগ বা ল্যান্ডফল (Landfall): আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর (বুধবার) সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের বিশাখাপত্তনম থেকে বাপাতলার মধ্যবর্তী কোনো স্থানে স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে। স্থলভাগে প্রবেশের সময় এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা দমকা হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ভয়ঙ্কর কাণ্ড জম্মুতে! দাউ দাউ করে জ্বলল শিব মার্কেট
৩. ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক সতর্কতা: এই সম্ভাব্য দুর্যোগের মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওড়িশার বেশ কিছু সংবেদনশীল জেলায় (যেমন— গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়াসহ অন্যান্য) লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সতর্কতা হিসেবে বহু জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪. পশ্চিমবঙ্গে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?
ঘূর্ণিঝড়টি মূলত অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোলেও, এর পরোক্ষ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ বা রাজ্যবাসীর স্বস্তির অবকাশ কম:
-
বৃষ্টির সময়সূচী: ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকেল থেকে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির আবহ তৈরি হবে। এরপর ২৮, ২৯ ও ৩০ অক্টোবর কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
-
ঝড় ও সমুদ্র পরিস্থিতি: পশ্চিমবঙ্গে ঝড়ের প্রত্যক্ষ তাণ্ডব কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে সমুদ্র সৈকত বা পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সর্বশেষ বুলেটিন দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


