Sunday, 1 November, 2026
1 November
HomeদেশManipur: কেন্দ্রকে 'ফাইনাল' বার্তা! ‘পুরো BJP সরকারকে ইস্তফা দিতে হবে’, মহামিছিল মণিপুরে

Manipur: কেন্দ্রকে ‘ফাইনাল’ বার্তা! ‘পুরো BJP সরকারকে ইস্তফা দিতে হবে’, মহামিছিল মণিপুরে

এই অভূতপূর্ব জনস্রোত ও 'ফাইনাল ওয়ার্নিং' প্রমাণ করে দিল যে, উত্তর-পূর্বের এই সীমান্ত রাজ্যে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পদক্ষেপের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে এবং অবিলম্বে বড়সড় সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ জাতীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল সংক্রান্ত প্রতিবেদন:

দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে চলতে থাকা রক্তাক্ত জাতিগত সংঘাত, রক্তপাত ও চরম অস্থিরতার পর এবার মণিপুরের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক দিল রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজ। রাজধানী ইম্ফল-সহ রাজ্যের একাধিক প্রান্তে আয়োজিত হলো এক ঐতিহাসিক মহামিছিল।

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে ‘শেষ আহ্বান’ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর উপজাতি ও সাধারণ মানুষের জীবন-সম্পত্তি রক্ষায় ব্যর্থ এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।

আরও পড়ুনঃ  বিক্ষোভ করুন, তারপরে শপিং-ও! কর্মসূচির আগেই আবদার রাহুলের

কোকোমি (COCOMI)-র নেতৃত্ব ও ৪টি প্রধান দাবি

বিক্ষোভের মূল আয়োজক সংগঠন ‘কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি’ (COCOMI)-র প্রাক্তন আহ্বায়ক খুরাইজাম আথৌবা এবং বর্তমান আহ্বায়ক ওয়াই ধীরেন এই মহামিছিল থেকে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ও রাজ্য প্রশাসনের উদ্দেশ্যে ৪টি প্রধান শর্ত ও দাবি পেশ করেছেন:

  1. বাস্তুচ্যুতদের পূর্ণবাসন: সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষকে সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিজেদের ভিটেমাটিতে সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে আনতে হবে।

  2. ১৯৫১ সালকে ভিত্তি ধরে এনআরসি (NRC): অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং রাজ্যের জনমিতি রক্ষায় ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর বা ‘কাট-অফ ইয়ার’ ধরে মণিপুরে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি চালু করতে হবে।

  3. অসম রাইফেলস প্রত্যাহার: রাজ্যবাসীর আস্থা হারানো কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী ‘অসম রাইফেলস’-কে মণিপুর থেকে সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে।

  4. বিজেপি সরকারের ইস্তফা: রাজ্যের মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করতে না পারার চরম ব্যর্থতার দায় নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

উপজাতিদের বিরুদ্ধে ‘ছায়াযুদ্ধ’ ও মাদক-জঙ্গি দমনের অভিযোগ

সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আথৌবা বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, মণিপুরের উপজাতি ও স্থানীয় অধিবাসীদের বিরুদ্ধে এক অদৃশ্য ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালানো হচ্ছে।

তিনি স্পষ্ট জানান, এই ছায়াযুদ্ধের নেপথ্যে থাকা মূল ষড়যন্ত্রী এবং রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মাদক-জঙ্গি সিন্ডিকেটকে সম্পূর্ণ সমূলে উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত মণিপুরে স্থায়ী শান্তি ফেরানো অসম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  উৎসবের মরশুমের মুখেই কোপ! আজ থেকে আবার বাড়ল এলপিজি সিলিন্ডারের দাম

সাড়ে তিন বছরের সংঘাত ও ধ্বংসলীলা

২০২৩ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া ইম্ফল উপত্যকার মেইতেই এবং পাহাড়ি এলাকার কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যকার এই জাতিগত হিংসা সাড়ে তিন বছর অতিক্রান্ত করলেও স্বাভাবিকতার মুখ দেখেনি।

  • মৃত্যু ও গৃহহীন: এই দীর্ঘ সংঘাতের জেরে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০৬ জনেরও বেশি মানুষের করুণ মৃত্যু হয়েছে।

  • বিশাল বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যা: ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কারণে হাজার হাজার পরিবার বর্তমানে ত্রাণ শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।

ইম্ফলের রাস্তায় এই অভূতপূর্ব জনস্রোত ও ‘ফাইনাল ওয়ার্নিং’ প্রমাণ করে দিল যে, উত্তর-পূর্বের এই সীমান্ত রাজ্যে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পদক্ষেপের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে এবং অবিলম্বে বড়সড় সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন