বিশেষ জাতীয় ও রাজনৈতিক প্রতিবেদন:
আজ রবিবার (১ নভেম্বর), সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নজিরবিহীন রাজনৈতিক উত্তেজনার সাক্ষী হতে চলেছে দেশের রাজধানী নয়া দিল্লি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও ‘ভোটচুরি’র গুরুতর অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রামলীলা ময়দানে আছড়ে পড়ছে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের মেগা প্রতিবাদ সমাবেশ।
অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো, এই ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে একমঞ্চে শামিল হচ্ছেন রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব থেকে শুরু করে নবগঠিত ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা (AISA)-র প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ।
রাহুলের পদযাত্রার ডাক ও দিল্লি পুলিশের অনুমতি মেলোড্রামা
সমাবেশের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইনস্টাগ্রামের এক বিশেষ ‘Ask Me’ লাইভ সেশনে এক বড় ঘোষণা করেন।
-
কনট প্লেস থেকে পদযাত্রার আহ্বান: রাহুল ঘোষণা করেন যে, ১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসের (Connaught Place) মিন্টো রোড সংযোগস্থল থেকে একটি প্রতিবাদ পদযাত্রা বের করে রামলীলা ময়দানের দিকে এগোনো হবে। তিনি আমজনতাকে ব্যাপক সংখ্যায় এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
-
দিল্লি পুলিশের কড়া অবস্থান ও রামলীলা ময়দানের সবুজ সংকেত: রাহুলের এই ঘোষণার পরই দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয় যে, কনট প্লেস থেকে কোনো পদযাত্রার জন্য পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়নি বা অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট শর্তাবলী ও ট্রাফিক নির্দেশিকা মেনে চলার অঙ্গীকার সাপেক্ষে রামলীলা ময়দানে জনসভার মূল অনুমতি বজায় রাখা হয়েছে।
রাজধানীতে ১০-১২ লক্ষের জনস্রোতের অনুমান ও পুলিশের ‘চক্রব্যূহ’ নিরাপত্তা
শনিবার রাত থেকেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রায় লক্ষাধিক বিরোধী কর্মী-সমর্থক দিল্লিতে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। দিল্লি পুলিশের অনুমান, মূল সমাবেশ চলাকালীন ১০ থেকে ১২ লক্ষ মানু্ষের উপস্থিতি ঘটতে পারে।
-
১৪ টি জোনে ২০০ এআই ক্যামেরা: ভিড় ও শৃঙ্খলা সামলাতে পুরো রামলীলা ময়দান ও সংলগ্ন এলাকাকে ১৪টি জোনে ভাগ করে ২০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ক্যামেরা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
-
ব্যাপক ট্রাফিক রুট বদল (Divert): নেতাজি সুভাষ মার্গ টি-পয়েন্ট, রাজঘাট, দিল্লি গেট, আইটিও (ITO) এ-পয়েন্ট, আজমেরি গেট রেড লাইট, রঞ্জিত সিংহ ফ্লাইওভার, ঝান্ডেওয়ালান গোলচত্বর, তুর্কমান গেট এবং মিরদার্ড চক—সবক্ষেত্রেই ট্রাফিক ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল রেঞ্জ জুড়ে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন বিপ্লব ড্রাগনের দেশে! মহাকাশে ‘পেট্রোল পাম্প’ তৈরির পথে কমিউনিস্ট চিন
রাজনীতির পারদ চড়াচ্ছে বিজেপির পাল্টা শিখ দাঙ্গাবিরোধী মিছিল
একদিকে যখন রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের কেন্দ্রবিরোধী গর্জন এবং জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি চলছে, ঠিক তখনই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আজ দিল্লিতেই ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গা বিরোধী গণমিছিলের ডাক দিয়েছে পদ্ম শিবির (BJP)। ১ নভেম্বরের এই সংবেদনশীল দিনে রাজপথে একধারে বিরোধীদের মেগা সমাবেশ এবং অন্যদিকে বিজেপির এই পাল্টা আক্রমণ দিল্লিকে কার্যত এক বিরাট রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে।


