Tuesday, 3 November, 2026
3 November
Homeআন্তর্জাতিক নিউজIndian Navy: মাঝসমুদ্রে ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান! হাইজ্যাক হয়ে যাওয়া ইরানি ট্রলার...

Indian Navy: মাঝসমুদ্রে ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান! হাইজ্যাক হয়ে যাওয়া ইরানি ট্রলার থেকে ২০ বন্দিকে উদ্ধার করল ভারতীয় নৌসেনা

নৌসেনার এই সাম্প্রতিক ও সফল অভিযান আন্তর্জাতিক জলপথে ভারতের নিরাপত্তা রক্ষীসুলভ ভূমিকা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করল।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ আন্তর্জাতিক ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদন:

আরব সাগরের বুকে আরও একবার সোমালি জলদস্যুদের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy)। গত সপ্তাহে হাইজ্যাক হওয়া একটি ইরানি মাছ ধরার ট্রলার থেকে দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টার ঝটিকা অভিযানে সমস্ত বন্দি নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই সফল সামরিক অভিযানে নৌসেনাকে সাধ্যমতো সাহায্য করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force) ও।

আরও পড়ুনঃ  লাদাখে মদ নিষিদ্ধের দাবি, অথচ সোনমের পরিবারেই অবৈধ ওয়াইন ব্যবসা!

১. জলদস্যুদের কবলে ‘আজিনি’ ও উদ্ধারের পটভূমি

  • অপহরণের ঘটনা: সংবাদ সংস্থা এপি (AP)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার বন্দর বায়লা ও হাফুনের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে ১২ জন সশস্ত্র সোমালি জলদস্যুর একটি দল ইরানের মাছ ধরার ট্রলার ‘আজিনি’ (Ajini)-কে অপহরণ করে। ট্রলারটিতে থাকা ২০ জন নাবিককেই বন্দি করা হয়।

  • ভাসমান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের ছক: ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার ইন্ডিয়ান ওশান’-এর তথ্য অনুযায়ী, অপহৃত ট্রলারটিকে একটি ‘ভাসমান ঘাঁটি’ (Floating Base) হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথে চলাচলকারী বড় বড় পণ্যবাহী জাহাজগুলিতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল জলদস্যুরা।

  • ৪৮ ঘণ্টার অভিযান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিনন্দন: দ্রুত পদক্ষেপ করে আরব সাগরের বুকে ট্রলারটির পথ আটকে নিখুঁত অভিযান চালায় ভারতীয় নৌসেনা। সমস্ত নাবিককে অক্ষত উদ্ধারের পর নৌসেনার এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করে তিনি জানান, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে ভারত নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সর্বদা অবিচল।

২. সোমালি জলদস্যুদের পুনরুত্থান ও ইরান-ইজ়রায়েল যুদ্ধের প্রভাব

একসময়ে (২০০৮ থেকে ২০১৪) সোমালিয়া সরকারের তৎপরতায় জলদস্যুদের উপদ্রব অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছিল। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের এই নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে:

  • যুদ্ধের প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তারই সুযোগ নিচ্ছে সোমালি জলদস্যুরা। সম্প্রতি এডেন উপসাগর ও সংলগ্ন আরব সাগরে বহু পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

  • চলতি বছরে লাগাতার হামলা: গত এপ্রিল থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে অন্তত ৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। ইয়েমেনের আল-মুকাল্লা উপকূল থেকে শুরু করে সমুদ্রের বহু দূরেও এই ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  এই না হলে ‘জিন্নার’ পাকিস্তান! দু’ফোঁটা পোলিও খাওয়াতে মোতায়েন ৮ হাজার পুলিশ?

৩. অতীতে কলকাতার যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

সোমালি জলদস্যুদের এই ক্রমবর্ধমান নৃশংসতার ইতিহাস বহু পুরনো এবং তা ভারতীয়দের কাছেও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।

  • গত সেপ্টেম্বরে পালাউ (পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র) পতাকাবাহী পেট্রোলিয়াম ট্যাঙ্কার ‘এম টি অনার ২৫’ (MT Honor 25)-এ হামলা চালায় সোমালি জলদস্যুরা।

  • সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ১৮,৫০০ ব্যারেল তেল নিয়ে যাওয়ার পথে ওই জাহাজে হানা দেয় তারা। বর্বরোচিত ওই হামলায় কলকাতার বাসিন্দা মোহম্মদ তানভীর উজ জমান সহ মায়ানমারের এক এবং পাকিস্তানের তিন নাগরিক নিহত হন। এছাড়া জখম হন আরও এক ভারতীয় ও তিন পাকিস্তানি নাগরিক।

আরব সাগরে নৌসেনার এই সাম্প্রতিক ও সফল অভিযান আন্তর্জাতিক জলপথে ভারতের নিরাপত্তা রক্ষীসুলভ ভূমিকা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করল।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন