কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
প্রবল তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে হিমালয়ের কোলে বড়সড় বিপদের মুখে পড়লেন ভারতের ছ’জন পর্যটক। নেপালের দূরবর্তী সে ফোকসুন্দো ন্যাশনাল পার্ক (Shey Phoksundo National Park) এলাকায় গত শনিবার থেকে আটকে রয়েছেন তাঁরা। এই দলে চার জন বাঙালি পর্যটকও রয়েছেন বলে জানা গেছে। আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ উদ্ধারে তৎপর হয়েছে নেপাল প্রশাসন ও স্থানীয় সেনা বাহিনী।
আরও পড়ুনঃ ডুয়ার্সে চিতাবাঘের সঙ্গে কাঁচি হাতে অসম লড়াই ৬০ বছরের বৃদ্ধা বাসন্তী রায়ের!
১. নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধো এলাকায় গমন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
নেপালের ডোলপা (Dolpa) জেলার স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, সে বিষয়ে পর্যটকদের আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন স্থানীয় গাইড ও নিরাপত্তাকর্মীরা।
-
উচ্চতা ও বরফের চাদর: ডোলপার মুখ্য জেলা আধিকারিক জুনু ধাকাল (Junu Dhakal) জানিয়েছেন, পর্যটকরা সে ফোকসুন্দো গ্রামীণ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ‘ধো’ (Dho) এলাকায় গিয়েছিলেন, যা প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার (প্রায় ১১,৮০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত।
-
গাইড ছাড়াই যাত্রা: স্থানীয় গাইডদের নিষেধ অমান্য করেই ওই পর্যটকরা ভারী তুষারপাতের মাঝে হ্রদ এলাকার দিকে এগিয়ে যান। গত শনিবার রাতেই তাঁদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
-
নিখোঁজ নয়, আটকে রয়েছেন: তবে চরম আবহাওয়া ও যোগাযোগ না থাকলেও প্রশাসনের তরফ থেকে এখনই ওই ৬ ভারতীয় পর্যটককে ‘নিখোঁজ’ বলতে নারাজ জেলা আধিকারিক।
২. আটকে থাকা ৬ ভারতীয় পর্যটকের পরিচয়
নেপাল প্রশাসন সূত্রে উদ্ধারকাজ শুরুর পাশাপাশি আটকে থাকা পর্যটকদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—
১. মৌমিতা হালদার
২. পিয়ালী কোলে
৩. জজলা ত্রিবেদী কুমার
৪. আদিত্য সিং
৫. দীপলীন বিশ্বাস
৬. রাজেশ দে
(প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই পর্যটকদের একটি বড় অংশ বাংলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে।)
আরও পড়ুনঃ বদলের বাংলায় বিরাট পরিবর্তন! থাকলেন জ্যোতি বসু, সরলেন মমতা
৩. উদ্ধারকার্য ও সেনা হেলিকপ্টার মোতায়েন
পর্যটকদের আটকে পড়ার খবর পাওয়ার পরই দ্রুত পদক্ষেপ করেছে নেপাল প্রশাসন।
-
এলাকা চিহ্নিতকরণ: উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা কর্মীরা পর্যটকদের আটকে পড়ার সুনির্দিষ্ট পাহাড়ি অঞ্চলটি চিহ্নিত করতে পেরেছেন।
-
সেনার কপ্টার: মুখ্য জেলা আধিকারিক জুনু ধাকাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আটকে থাকা পর্যটকদের দ্রুত উদ্ধার করার জন্য ইতোমধ্যে একটি সেনা হেলিকপ্টার (Army Helicopter) ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকলেই তাঁদের এয়ারলিফট করে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শীতের শুরুতেই প্রবল তুষারপাতের এই আকস্মিক ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। সেনার এই উদ্ধার অভিযানের দিকেই এখন সকলের নজর রয়েছে।


