Sunday, 1 November, 2026
1 November
Homeআন্তর্জাতিক নিউজBangladesh: মাসে ৩০০০০ টাকা বেতনের দাবিতে রণক্ষেত্র বাংলাদেশ; প্রবল অস্বস্তিতে তারেক রহমান...

Bangladesh: মাসে ৩০০০০ টাকা বেতনের দাবিতে রণক্ষেত্র বাংলাদেশ; প্রবল অস্বস্তিতে তারেক রহমান সরকার

রবিবার সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথ অবরোধ শুরু করেন শয়ে শয়ে শ্রমিক।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন:

ন্যূনতম মাসিক বেতন বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও তার সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল। রবিবার (১ নভেম্বর) হাজার হাজার বস্ত্র ও পোশাক কারখানার শ্রমিক রাজপথে নেমে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি নামাতে হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হওয়ার ঠিক পরেই শ্রমিকদের এই আন্দোলন এবং একের পর এক রাজনৈতিক বিক্ষোভে প্রবল অস্বস্তির মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সরকার।

আরও পড়ুনঃ জেন জি ক্ষোভের নামে দাঙ্গা! এবার পুড়ছে জার্মানি

১. মূল দাবি: ১২,৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০,০০০ টাকা মজুরি

বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বা বস্ত্র কারখানায় শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারিত রয়েছে ১২,৫০০ টাকা।

  • বিক্ষোভকারীদের দাবি: লাগামহীন দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ৩০,০০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

  • সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি বনাম অসন্তোষ: সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছে, যার ফলে তাঁদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর পরই বস্ত্র শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

  • মালিকপক্ষের বক্তব্য: অন্যদিকে, পোশাক কারখানার মালিকদের যুক্তি— আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান কাজের অর্ডার কমে গিয়েছে, পোশাকের দামও বাড়েনি। উলটোদিকে কাঁচামাল আমদানির খরচ ও উৎপাদন ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় রাতারাতি এই বিশাল অংকের মজুরি বৃদ্ধি করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব।

২. ঢাকার রাজপথে তাণ্ডব: গাড়ি পোড়ানো ও খণ্ডযুদ্ধ

রবিবার সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথ অবরোধ শুরু করেন শয়ে শয়ে শ্রমিক।

  • মিরপুর ১০ মোড় রণক্ষেত্র: বিক্ষোভের জেরে ঢাকা ও গাজিপুরের সংযোগকারী সড়কগুলির পাশাপাশি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ব্যস্ত মিরপুর-১০ মোড়। একাধিক গাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়।

  • পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ: বিক্ষোভকারীদের হটাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তীব্র খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। ইট-পাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন। উত্তেজিত শ্রমিকরা একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

  • কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদুনে গ্যাসের সেল এবং একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ফাটিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নরসিংপুর এলাকার সমস্ত কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

  • সরকারের পদক্ষেপ: উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে পড়ে শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য তড়িঘড়ি একটি ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বোর্ড গঠন করেছে সরকার।

আরও পড়ুনঃ  হ্যালোউইনের রাতে সুইজারল্যান্ডে তীব্র হিংসা ও অগ্নিসংযোগ; জুরিখ ও বাসেলে পুলিশের ওপর হামলা

৩. রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারের ওপর চাপ

বস্ত্র শ্রমিকদের এই আন্দোলন ছাড়াও গত শুক্রবার মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিশাল প্রতিবাদ সভা করে ছাত্রদল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন।

একদিকে অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার উচ্চমূল্য, অন্যদিকে পোশাক শিল্পের শ্রমিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি—সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ওপর বড়সড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন