কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামপুর ব্লক অফিসে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারপিট শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
১. ইসলামপুর ব্লক অফিসে সংঘর্ষের সূত্রপাত
মঙ্গলবার দুপুরের এই গন্ডগোলের নেপথ্যে ছিল ব্লক অফিসে ঢোকার অধিকার ও সংখ্যাতত্ত্বের লড়াই:
-
এনসিপিআই সদস্যদের প্রবেশ: মঙ্গলবার দুপুরে এনসিপিআই (NCPI)-এর ১৮ জন সদস্য বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতি অফিসে প্রবেশ করেন।
-
বিজেপি ও মোর্চার ধাক্কা: এর কিছু সময় পর বিজেপি নেতা চিত্রজিৎ রায় ও সঞ্জীব ভাওয়াল-এর নেতৃত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সদস্যরা অন্য একদল সদস্যকে নিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
-
পুলিশের লাঠিচার্জ: পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে চড়াও হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে লাঠিচার্জ করে।
২. পটপরিবর্তন ও রাজনৈতিক সমীকরণের পটভূমি
এই সংঘর্ষের নেপথ্যে রয়েছে গত কয়েক মাসের লাগাতার রাজনৈতিক পালাবদল এবং অনাস্থার জলঘোলা:
-
অনাস্থা ও গণ-যোগদান: কিছুদিন আগেই ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন সভাপতি বিনতা সরকার-এর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন সদস্যদের একাংশ। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৩ সেপ্টেম্বর দার্জিলিঙের সিংমারীতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান কার্যালয়ে ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির ২০ জন সদস্যের যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছিল।
-
এনসিপিআই-তে যোগদান: সম্প্রতি ১৬ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগদানের সরকারি অনুমোদন মেলার পর ইসলামপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই অনুমোদিত তালিকায় খোদ বর্তমান সভাপতি বিনতা সরকারের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য বড় প্যাকেজ; রেশনের চাল বৃদ্ধি ও এককালীন ৫০০০ টাকার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
৩. পরবর্তী পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক জল্পনা
অনাস্থা প্রস্তাব, ব্লক অফিসে বড়সড় দলবদল এবং মঙ্গলবারের সংঘর্ষের জেরে ইসলামপুরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। খুব শীঘ্রই এই পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনের জন্য পুনরায় সভা ডাকা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক শিবির বা জোটের হাতে ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতা যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


