Thursday, 5 November, 2026
5 November
Homeদক্ষিণবঙ্গSheoraphuli: শেওড়াফুলির ঐতিহ্যবাহী নিস্তারিণী কালীবাড়ি; ইতিহাস, অলৌকিক মহিমা ও দক্ষিণেশ্বরের সূচনা

Sheoraphuli: শেওড়াফুলির ঐতিহ্যবাহী নিস্তারিণী কালীবাড়ি; ইতিহাস, অলৌকিক মহিমা ও দক্ষিণেশ্বরের সূচনা

১৮৪৭ সালে স্বামী রাজচন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর শোকাতুরা রানি রাসমণি বজরা নিয়ে কাশীর (বারাণসী) উদ্দেশ্যে রওনা হন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংক্রান্ত স্থান বিবরণী:

হুগলি জেলার শেওড়াফুলি রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গাতীরের নিস্তারিণী ঘাটে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী নিস্তারিণী কালী মন্দির। ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে (১৭৪৯ শকাব্দ) শেওড়াফুলি-পাটুলি রাজবংশের রাজা হরিশ্চন্দ্র রায় এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় দুই শতকের প্রাচীন এই মন্দিরটি কেবল স্থাপত্য বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্র নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শেওড়াফুলি রাজপরিবারের এক করুণ ইতিহাস এবং কলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠার অচ্ছেদ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক যোগসূত্র।

আরও পড়ুনঃ  স্বর্ণালংকার নয়, হাজার শোলার চাঁদমালায় সুসজ্জিত হন উখরার তিন শতাব্দের প্রাচীন ‘সন্ন্যাসী কালী’

১. প্রতিষ্ঠার অলৌকিক ইতিহাস

  • রাজা হরিশ্চন্দ্রের আত্মগ্লানি: বর্ধমানের পাটুলি-নারায়ণপুর রাজপ্রাসাদে তিন রানির নিত্যদিনের কলহে অতিষ্ঠ হয়ে রাজা হরিশ্চন্দ্র রায় রাগের মাথায় খড়্গাঘাতে প্রথমা মহিষী সর্বমঙ্গলা দেবীকে হত্যা করে বসেন। অপরাধবোধ ও আত্মগ্লানিতে দগ্ধ হয়ে রাজা আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে অরণ্যে পালিয়ে যান।

  • কষ্টিপাথর ও স্বপ্নাদেশ: বনে এক বৃক্ষতলে শুয়ে গভীর রাতে রাজা দৈব স্বপ্নাদেশ পান—যে শিলাখণ্ডের ওপর তিনি মাথা রেখে ঘুমিয়েছেন, সেই কষ্টিপাথর দিয়েই দেবীবিগ্রহ তৈরি করে গঙ্গাতীরে মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ঘুম থেকে উঠে শিয়রে সত্যি সত্যি একটি কষ্টিপাথরের শিলা দেখতে পান রাজা। এর কিছুদিনের মধ্যেই এক অজ্ঞাতনামা ভাস্কর অলৌকিকভাবে রাজদরবারে উপস্থিত হয়ে দেবীর আদেশে বিগ্রহ গড়ার দায়িত্ব নেন।

  • রাজার বৈরাগ্য: মন্দির প্রতিষ্ঠার পর রাজা হরিশ্চন্দ্র তাঁর জীবনের অবশিষ্ট সময় মন্দিরের পশ্চিমে এক পর্ণকুটিরে বৈরাগীর মতো কাটিয়ে দেন।

২. মন্দির স্থাপত্য ও অভ্যন্তরীণ বিগ্রহ

  • স্থাপত্যশৈলী: নিস্তারিণী মন্দিরটি অনুচ্চ ভিত্তিবেদির ওপর নির্মিত একটি বিশাল সমতল ছাদবিশিষ্ট দক্ষিণমুখী ঠাকুরদালান। মন্দিরের সম্মুখভাগে সাতটি এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাশে পাঁচটি করে খিলান রয়েছে, যা ‘কলাগেছ্যা’ রীতির গোল ও সরু স্তম্ভগুচ্ছের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

  • গর্ভগৃহ ও বিগ্রহ: পঞ্চমুণ্ডীর আসনের ওপর তামার তৈরি অষ্টদল পদ্মের বেদীতে শায়িত শিবের বক্ষে বিরাজ করছেন কষ্টিপাথরের অপরূপা দেবী নিস্তারিণীর মূর্তি।

  • অন্যান্য বিগ্রহ ও নিত্যসেবা: মায়ের কক্ষের দুই পাশে শ্বেতপাথরের দুটি শিবলিঙ্গ রয়েছে। পাশাপাশি, অপর একটি প্রকোষ্ঠে পাটুলি রাজপ্রাসাদ থেকে স্থানান্তরিত রাজপরিবারের কুলদেবতা শ্রীশ্রী কৃষ্ণরায় ও বালগোপাল নিত্য পূজিত হন। মন্দির চত্বরে মহিষমর্দিনী, মহালক্ষ্মী ও শিবের প্রাচীন বিগ্রহও রয়েছে।

  • ভোগ ও প্রথা: এই মন্দিরে দেবীর অন্নভোগ প্রথা নেই; তার পরিবর্তে প্রতিদিন লুচি ভোগ নিবেদন করা হয় এবং আজও প্রাচীন রীতি মেনে এখানে পাঁঠাবলি অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুনঃ  বাঙালির আত্মিক বন্ধন; বাংলার প্রথম দক্ষিণাকালী

৩. রানি রাসমণি ও দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রেক্ষাপট

নিস্তারিণী মন্দিরের সঙ্গে কলকাতার জানবাজারের রানি রাসমণি ও দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে:

  • বারাণসী যাত্রা ও অদ্ভুত দর্শন: ১৮৪৭ সালে স্বামী রাজচন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর শোকাতুরা রানি রাসমণি বজরা নিয়ে কাশীর (বারাণসী) উদ্দেশ্যে রওনা হন। যাত্রাপথে শেওড়াফুলি ঘাটে নোঙর করলে, নির্জন দুপুরে লালপেড়ে শাড়ি পরা এক রহস্যময়ী কিশোরী তাঁদের পথ দেখিয়ে নিস্তারিণী মন্দিরে নিয়ে আসে এবং মন্দিরের সামনে এসেই অদৃশ্য হয়ে যায়।

  • দক্ষিণেশ্বরের অনুপ্রেরণা: গর্ভগৃহে প্রবেশ করে রানিমা হতবাক হয়ে লক্ষ্য করেন, দেবী নিস্তারিণীর মুখশ্রী, চোখ ও হাসির সঙ্গে সেই কিশোরীর অবিকল মিল রয়েছে। এই অপার্থিব অভিজ্ঞতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রানিমা কাশীযাত্রা বাতিল করে কলকাতায় ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে নিস্তারিণী দেবীর এই রূপ ও ভাবাবেগকেই পুঁজি করে দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন