বিশেষ রাজ্য ও রাজনৈতিক সংবাদ প্রতিবেদন:
নিজের দলেরই কর্মীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং পেটানোর হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান। ভাইরাল হওয়া ওই হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ডিংয়ে বিধায়ককে বলতে শোনা গিয়েছে, “আমি বিধায়ক হওয়ার আগে গুন্ডা ছিলাম।” যদিও এই অডিওর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তুঙ্গ রাজনৈতিক তরজা।
১. অডিও বিতর্কের নেপথ্য কারণ ও ঘটনার সূত্রপাত
-
থানায় অভিযোগ ও বিধায়কের ক্ষোভ: দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তারকেশ্বরের বিধায়কের এক ঘনিষ্ঠ বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে ভান্ডারহাটির এক যুব বিজেপি কর্মী সম্প্রতি স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। মূলত দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার খবর পেতেই প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েন বিধায়ক সন্তু পান।
-
হুমকি ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা: ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে শোনা যায়, তিন ব্যক্তির সেই কথোপকথনে বিধায়ক সন্তু পান তাঁর দলেরই ওই কর্মীকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও হুমকির সুরে কথা বলছেন। শুধু তাই নয়, আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কনভেনারকে উদ্দেশ করেও তাঁর মুখে আপত্তিকর মন্তব্য শোনা যায়।
২. শাসক শিবিরের আক্রমণ ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
এই ভাইরাল অডিও ক্লিপটি লুফে নিতে সময় নষ্ট করেনি শাসক শিবির। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকেও এটি শেয়ার করা হয়। হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কনভেনার অসিত মজুমদার তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন:
“এগুলো বখড়ার গন্ডগোল। বিজেপি কর্মীরা বিধায়ককে মারছে, আবার কোথাও বিধায়ক কর্মীদের মারছে। তারকেশ্বরের বিধায়ক যে ভাষায় কথা বলছেন তা মুখে আনা যায় না। তিনি নিজেই বলছেন তিনি গুন্ডা। বিজেপি গুন্ডা, মাস্তানদের নিয়েই তৈরি দল। এঁদের কালচার মানুষ বুঝে গেছে। উন্নয়নের নামে লবডঙ্কা।”
আরও পড়ুনঃ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চোখ কপালে তুলে দিয়ে বলুন “কে বলেছে আমি রান্না পারি না!” হেঁশেলে আপনার নো নলেজ, ফুল কনফিডেন্স’ গ্যাং
৩. যার সঙ্গে কথোপকথন, সেই কর্মীর সাফাই
এদিকে, এই গোটা বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা সংশ্লিষ্ট যুব বিজেপি কর্মী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান:
“আমি বিজেপি কর্মী। আমাদের মধ্যে সমস্যা হওয়ার কথা নয়, যদিও হয়েছে তা দলীয় ব্যাপার। কিন্তু এই অডিও কে ভাইরাল করল? কেন করল? তা আমি জানি না। আমি কাউকে ভাইরাল করার জন্য পাঠাইনি বা অনুমতিও দিইনি। সকলকে ডিলিট করে দিতে বলেছি।”
জনপ্রতিনিধি হয়ে দলীয় কর্মীকে প্রকাশ্যে এহেন হুমকি এবং নিজের অতীতের ‘গুন্ডা’ ইমেজ সংক্রান্ত মন্তব্য প্রকাশ্যে আসায় বিরোধী দলগুলির সমালোচনার মুখে পড়েছে গেরুয়া শিবির।


