বিশেষ লাইফস্টাইল ও ঐতিহ্য সংক্রান্ত ফিচার প্রতিবেদন:
কালীপুজোর আগের দিন অর্থাৎ ভূত চতুর্দশীতে ঘরে ঘরে ১৪ শাক খাওয়ার ঐতিহ্য বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। মা-ঠাকুমার আমল থেকেই এই নিয়ম চলে আসছে। কিন্তু এই প্রাচীন নিয়মের ফাঁকেই প্রতি বছর ঘরে ঘরে ঘটে দারুণ সব মজার কাণ্ড!
আরও পড়ুনঃ দক্ষিণ দিনাজপুরে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড! স্ত্রীকে খুন করে কাটা মুন্ডু হাতে মন্দিরে বসে রইল প্রাক্তন বাস কন্ডাক্টর স্বামী
১. হেঁশেলে নতুন মুখের ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ও মজার অভিজ্ঞতা
-
নতুন বউয়ের বুক ধিপধিপানি: নতুন বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে প্রথম পরীক্ষার মুখে পড়া নতুন বউ বা জামাইদের কাছে দুপুরের মেনুতে নিজ হাতে চৌদ্দ শাক রাঁধার চ্যালেঞ্জটা যে কী পরিমাণ টেনশনের, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!
-
‘নো নলেজ, ফুল কনফিডেন্স’ গ্যাং: আবার কিছু মানুষ এমন আছেন, যাঁরা সারা জীবনে কখনও রান্নাঘরের চৌকাঠ মাড়াননি, খুন্তি কী জিনিস সেটাই ভালো করে চেনেন না, অথচ ভূত চতুর্দশী আসতেই বুক ফুলিয়ে বলে বসেন— “এ আবার এমন কী কঠিন কাজ! এ বছর চৌদ্দ শাকটা আমি একা হাতে রাঁধব!” তারপর রান্নাঘরে ঢুকে শাকের বদলে মশলার কৌটো উল্টে ফেলে মাথায় হাত!
তবে যতই হাঁসফাঁস করুন না কেন, শ্বশুরবাড়ির সবাইকে তাক লাগিয়ে ‘হেঁশেলের হিরো’ হয়ে ওঠার এটাই মোক্ষম সুযোগ! আর আপনার সেই মিশন সাকসেসফুল করতে রইল একদম সোজা সাপটা ভাষায় ১৪ শাক রান্নার মজার ও সহজ গাইড।
২. কোন চৌদ্দটি শাক থাকে এতে?
শাক তো বাজার থেকে নিয়ে এলেন, কিন্তু কোনগুলো সেই ১৪টি মহারথী, তা একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া ভালো! ঐতিহ্য অনুযায়ী এর মধ্যে থাকে: ১. ওল শাক
২. কেঁউ শাক
৩. বেতো শাক
৪. কালকাসুন্দে
৫. সর্ষে শাক
৬. নিম পাতা
৭. জয়ন্তী শাক
৮. শাঞ্চে শাক
৯. গুলঞ্চ পাতা
১০. পলতা পাতা
১১. ঘেঁটু বা ভাঁট পাতা
১২. হিঞ্চে শাক
১৩. সুষনি শাক
১৪. শালুকা পাতা
৩. রান্নার জন্য কী কী লাগবে?
-
বাজার থেকে ভালো করে বেছে আনা কুচানো ১৪ শাক।
-
সর্ষের তেল, কালো জিরে, একটা শুকনো লঙ্কা।
-
১টি বড় পেঁয়াজ কুচি, ১টি টমেটো কুচি, ৮-৯ কোয়া রসুন কুচি, ৪-৫টা কাঁচা লঙ্কা কুচি, আধ চামচ আদা বাটা।
-
হলুদ, ধনে ও লঙ্কা গুঁড়ো, একটু আমচুর পাউডার, স্বাদমতো নুন আর সামান্য চিনি।
(টিপস: কেউ যদি নিরামিষ করতে চান, তবে পেঁয়াজ-রসুন বাদ দিলেও শাকের স্বাদ কমবে না!)
আরও পড়ুনঃ বন্ধ হচ্ছে বার্ষিক আর্থিক সহায়তা; এ বার ট্রাম্পের নিশানায় ইজ়রায়েল
৪. ধাপে ধাপে রান্নার সহজ পদ্ধতি
-
কুচানোর পর্ব: প্রথমে শাকগুলো ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে ঝিরিঝিরি করে কুচিয়ে নিন। এই পর্বে হাত যাতে না কাটে, সেদিকে একটু নজর রাখবেন প্লিজ!
-
ফোড়নের সুবাস: কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করুন। তেল চনমন করে উঠলে কালো জিরে আর একটা শুকনো লঙ্কা চিরে ফোড়ন দিন। সুন্দর গন্ধ ছড়ানোর সঙ্গেই রান্নাঘরে সুবাস ছড়িয়ে পড়বে।
-
মশলা কষানো: এবার তেলের মধ্যে একে একে কাঁচা লঙ্কা, রসুন ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হাত চালাতে থাকুন। পেঁয়াজ একটু ভাজা হলে আদা বাটা দিয়ে মশলাটা ভালো করে কষিয়ে নিন, যাতে কাঁচা গন্ধটা আর না থাকে। এরপর হলুদ, লঙ্কা ও ধনে গুঁড়ো, টমেটো কুচি আর পরিমাণমতো নুন দিয়ে দিন। টমেটো গলে গেলে বুঝবেন হেঁশেলে আপনার গ্রিপ শক্ত হচ্ছে!
-
শাকের ম্যাজিক: এবার ওই কুচানো ১৪ শাক কড়াইতে ঢেলে দিন। এক কড়াই শাক দেখে প্রথমে চমকে উঠবেন না যেন, মনে হতে পারে কড়াই উপচে পড়ে গেল! কিন্তু একটু নুন পড়তেই দেখবেন শাক কেমন চুপসে একদম কমে গেছে। সামান্য চিনি ছড়িয়ে দিয়ে আঁচ কমিয়ে কড়াই ঢাকা দিন মাত্র ২ মিনিট।
-
পরিবেশনের পালা: ঢাকনা খুললেই দেখবেন শাক থেকে দিব্যি জল বেরিয়েছে। আঁচ একটু বাড়িয়ে জলটা ভালো করে শুকিয়ে নিন। শাক ভাজা ভাজা হয়ে গেলে নামানোর ঠিক আগে উপর থেকে একটু আমচুর পাউডার আর কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
ব্যস! আপনার হাতের জাদুতে ১৪ শাক একদম রেডি। এবার গরম গরম ভাতের থালায় এটি বাড়িয়ে দিন আর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চোখ কপালে তুলে দিয়ে বলুন— “কে বলেছে আমি রান্না পারি না!”


