Wednesday, 4 November, 2026
4 November
HomeকলকাতাKolkata: ডাকাত আতঙ্ক থেকে শ্রীরামকৃষ্ণের স্মৃতিবিজড়িত কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি

Kolkata: ডাকাত আতঙ্ক থেকে শ্রীরামকৃষ্ণের স্মৃতিবিজড়িত কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি

১৭০৩ সাল নাগাদ সাধক উদয় নারায়ণ ব্রহ্মচারী হোগলার পাতার ছাউনি দিয়ে এখানে ‘পঞ্চমুণ্ডীর আসন’ স্থাপন করে দেবীর মৃন্ময়ী বিগ্রহ ও ঘট প্রতিষ্ঠা করেন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন:

একদা ঘন জঙ্গল ও শ্মশানের নির্জনতায় ঘেরা যে অঞ্চল ভয়ে কাঁপত ডাকাতদের অত্যাচারে, কালের নিয়মে সেই জনপদই আজ কলকাতার অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র—ঠনঠনিয়া। লোককথা আর ইতিহাসের সুতোয় বাঁধা কলকাতার বিখ্যাত ঠনঠনিয়ার মা সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্মৃতি এবং তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো রোমহর্ষক নানা কাহিনী।

আরও পড়ুনঃ  বলির সময় নাকি নিজে থেকেই কেঁপে উঠত মা কালী! মালদহের মানিকোড়ার ‘ডাকাতকালী’

১. নামের উৎস ও প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

  • ‘ঠনঠনিয়া’ নামের নেপথ্য কাহিনী: একসময়ে এই এলাকা ছিল দস্যুদের অবাধ বিচরণের জায়গা। রাতের অন্ধকারে যখন ডাকাতরা লুটপাট চালাতে আসত, তখন মন্দিরের সতর্কতামূলক ঘণ্টার বিকল বা বিশেষ ‘ঠন ঠন’ ধ্বনি শুনে গ্রামবাসীরা আগে থেকেই সাবধান হয়ে যেতেন। লোকমুখেই এই ঘণ্টা ধ্বনির সূত্র ধরে এলাকার নাম হয়ে যায় ‘ঠনঠনিয়া’।

  • প্রতিষ্ঠা ও মন্দির নির্মাণ: ১৭০৩ সাল নাগাদ সাধক উদয় নারায়ণ ব্রহ্মচারী হোগলার পাতার ছাউনি দিয়ে এখানে ‘পঞ্চমুণ্ডীর আসন’ স্থাপন করে দেবীর মৃন্ময়ী বিগ্রহ ও ঘট প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তাঁর শিষ্য শঙ্কর ঘোষ-এর হাতে মন্দির ও সেবার দায়িত্ব অর্পিত হয় এবং তাঁরই উদ্যোগেই ১৮০৩ সালে বর্তমান স্থায়ী পাকা মন্দিরটি নির্মিত হয়। আজও ঘোষ পরিবারের বংশধরেরাই পুরুষানুক্রমে এই পবিত্র সেবাকাজ পরিচালনা করে আসছেন।

২. ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও কেশবচন্দ্র সেনের মানত

ঠনঠনিয়ার মা সিদ্ধেশ্বরীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে যুগনায়ক ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব-এর স্মৃতি:

  • গান শোনানোর দিনগুলি: প্রথম জীবনে যখন ঠাকুর কলকাতার ঝামাপুকুরে থাকতেন, তখন তিনি প্রায়ই এই মন্দিরে এসে মা সিদ্ধেশ্বরীকে আপন মনে গান শুনিয়ে যেতেন। পরবর্তীকালে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরে পুরোহিতের দায়িত্ব নেওয়ার পরেও সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে আসতেন ঠনঠনিয়ার এই সিদ্ধপীঠে।

  • কেশবচন্দ্র সেনের রোগমুক্তি ও ডাব-চিনির মানত: শ্রীরামকৃষ্ণের বিশিষ্ট ভক্ত তথা ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম শীর্ষনেতা কেশবচন্দ্র সেন একবার মরণাপন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। ভক্তের সেই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় ঠাকুর স্বয়ং মা সিদ্ধেশ্বরীর চরণে ডাব ও চিনি মানত করে পুজো দিয়েছিলেন। অলৌকিক ও আশ্চর্যজনকভাবে সেই মানতের পরেই কেশবচন্দ্র সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুনঃ শ্মশানের পোড়া কাঠ, নরমুণ্ড ও পঞ্চমুন্ডির আসনের রহস্যাবৃত গর্ভগৃহের ভয় ও ভক্তির অনন্য আধ্যাত্মিক দুনিয়া! উত্তর কলকাতার বেলগাছিয়ার তারাশঙ্করী পীঠ

৩. পুজোর বিশেষ আচার ও ভোগের ভিন্নতা

ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির নিত্যপুজো ও বলির আচারে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

  • নিত্যভোগ ও বলি: দেবীর নিত্যপূজায় অন্নভোগের সাথে মাছ নিবেদনের প্রাচীন রীতি প্রচলিত রয়েছে। এছাড়া প্রতি অমাবস্যায় এখানে নিয়ম করে পাঁঠাবলি দেওয়া হয়।

  • দীপান্বিতা ও ফলহারিণীর ব্যতিক্রম: তবে দীপান্বিতা কালীপূজার পবিত্র রাত ও ফলহারিণী অমাবস্যার দিনে এই নিয়মে বড় ব্যতিক্রম ঘটে। ওই বিশেষ দিনগুলিতে মা সিদ্ধেশ্বরীকে সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। কালীপূজার রাতে মায়ের পাতের বিশেষ নৈবেদ্যে অন্নভোগের পরিবর্তে থাকে ফুলকো লুচি, হরেক রকমের ভাজা এবং দরবেশ, লেডিকেনি, লাড্ডু, গজার মতো হরেকৃষ্ণ ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির বিশাল সম্ভার।

জঙ্গলঘেরা ডাকাতদের আতঙ্কের দিন পেরিয়ে সময়ের স্রোতে ঠনঠনিয়ার মা সিদ্ধেশ্বরী আজ কলকাতার আপামর মানুষের ভক্তি, বিশ্বাস এবং পরম আশ্রয়ের স্থল হয়ে উঠেছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন