বিশেষ রাজ্য ও পরিবহণ সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন:
দীর্ঘদিন ধরে সরকারিভাবে ভাড়া সংশোধন না হওয়ায় তীব্র আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে ফের ভাড়াবৃদ্ধির দাবিতে সরব হলেন রাজ্যের বেসরকারি বাস ও মিনিবাস মালিকেরা। সোমবার রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং-কে চিঠি দিয়ে ভাড়াবৃদ্ধির একটি সুনির্দিষ্ট খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছে ‘জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস’। প্রস্তাবিত এই ভাড়া কাঠামো অনুমোদিত হলে মহানগরে সাধারণ বাসে উঠলেই যাত্রীদের গুনতে হবে ন্যূনতম ১৮ টাকা।
আরও পড়ুনঃ নতুন সমীকরণে জম্মু-কাশ্মীরের মসনদে এবার বিজেপি! তোলপাড় শুরু জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতিতে
১. কলকাতার সাধারণ বাসের প্রস্তাবিত ভাড়া কাঠামো
সংগঠনের প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী কলকাতায় সাধারণ বাসের দূরত্বভিত্তিক ভাড়া নিম্নরূপ:
-
প্রথম ০–৪ কিলোমিটার: ১৮ টাকা (ন্যূনতম)
-
৪–৬ কিলোমিটার: ২০ টাকা
-
৬–৮ কিলোমিটার: ২২ টাকা
-
৮–১২ কিলোমিটার: ২৪ টাকা
-
১৬–২০ কিলোমিটার: ২৮ টাকা
-
২০–২২ কিলোমিটার: ৩০ টাকা
২. জেলা, এক্সপ্রেস ও প্রমিয়াম বাসের প্রস্তাব
শুধু কলকাতাই নয়, সমগ্র রাজ্যজুড়ে বেসরকারি গণপরিবহণের জন্য ভাড়াবৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে:
-
জেলার সাধারণ বাস: প্রথম ৪ কিমি পর্যন্ত ২০ টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ২০ পয়সা হারে অতিরিক্ত ভাড়া।
-
এক্সপ্রেস বাস: প্রথম ৪ কিমি দূরত্বের জন্য ২৫ টাকা।
-
সাধারণ এসি (AC) বাস: প্রথম ৪ কিমি দূরত্বের জন্য ৪০ টাকা।
-
ভলভো (Volvo) বাস: প্রথম ২ কিমি দূরত্বের জন্য ৫০ টাকা।
-
অন্যান্য অঞ্চল ও মিনিবাস: হাওড়া, দুর্গাপুর, আসানসোল, মালদহের মতো শহরের মিনিবাসের পাশাপাশি দার্জিলিং সহ পাহাড়ি অঞ্চলের সমস্ত রুটে চলা বাসের ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের আর্জি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নয়া সূচি প্রস্তুত; ২মার্চ থেকে শুরু হতে পারে মাধ্যমিক পরীক্ষা; প্রস্তাবিত সময়সূচির তালিকা নীচে দেওয়া হল
৩. ভাড়াবৃদ্ধির দাবির পেছনের যুক্তি
বাস মালিকদের দাবি, ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে বেসরকারি বাসের সরকারি ভাড়া বাড়েনি। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে জ্বালানি তেলের দাম, যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক এবং আবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে পুজোর পর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়ায় সোমবার পুনরায় এই বিস্তারিত আবেদনপত্র পাঠানো হয়। সংগঠনটির আশঙ্কা, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ে রাস্তা থেকে বাসের সংখ্যা আরও কমে যাবে, যা গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।


