উৎসবের মরশুমেই সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় টান। ঘি, মাখনসহ একাধিক দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বাড়াল দেশের অন্যতম প্রধান ডেইরি ব্র্যান্ড ‘আমুল’ (Amul)। আমুল ব্র্যান্ডের ছাতার তলায় দুগ্ধজাত পণ্য বাজারজাতকারী সংস্থা ‘গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডেরেশন লিমিটেড’ (GCMMF) আনুষ্ঠানিকভাবে এই মূল্যবৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ প্রদীপের সলতে থেকে আগুন? শিলিগুড়িতে পুড়ে খাঁক সুবিশাল বাড়ি
১. দাম বাড়ার কারণ ও কার্যকর হওয়ার সময়
-
কার্যকরের তারিখ: সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, গত ২ নভেম্বর থেকেই ঘি ও মাখনের বর্ধিত দাম কার্যকর হয়ে গিয়েছে।
-
মূল্যবৃদ্ধির কারণ: গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডেরেশন বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে দুগ্ধ উৎপাদনের সামগ্রিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
২. পণ্যভিত্তিক নতুন ও পুরনো দামের তালিকা
-
আমুল ঘি (সাধারণ ১ লিটার পাউচ):
-
পুরনো দাম: ৬৩০ টাকা
-
নতুন দাম: ৬৮০ টাকা (লিটার প্রতি ৫০ টাকা বৃদ্ধি)
-
-
আমুল গরুর দুধের ঘি (১ লিটার প্যাক):
-
পুরনো দাম: ৬৯৫ টাকা
-
নতুন দাম: ৭৩৫ টাকা (লিটার প্রতি ৫০ টাকা বৃদ্ধি)
-
-
আমুল টেবিল বাটার (৫০০ গ্রাম প্যাকেট):
-
প্যাক প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
-
আরও পড়ুনঃ দীপাবলির আগেই আতশবাজির রোশনাই; ট্রাম্প হারতেই খেপা ষাঁড়ের মতো ছুটল সেনসেক্স
৩. সংস্থার আর্থিক বৃদ্ধি ও টার্নওভার
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম বাড়লেও ডেইরি জায়ান্ট হিসেবে আমুলের ব্যবসা ও আয় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে:
-
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের টার্নওভার: চলতি অর্থবর্ষে আমুলের পরিচালনা সংস্থা জিচিএমএমএফ (GCMMF)-এর মোট টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ৭৩,৪৫০ কোটি টাকা।
-
বার্ষিক বৃদ্ধি: গত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সংস্থার আয় ছিল ৬৫,৯১১ কোটি টাকা। সেই তুলনায় চলতি অর্থবর্ষে সংস্থাটি ১১.৪ শতাংশ আর্থিক বৃদ্ধি নথিভুক্ত করেছে।
উৎসবের মুখে গৃহস্থালির রান্নাবান্না ও মিষ্টি তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান ঘি-মাখনের এই মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের বাজেটে যে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে, তা বলাই বাহুল্য।


