বিশেষ জাতীয় ও পরিবেশ সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন:
জমি সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি জটিলতার মধ্যেই ফের বড়সড় প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়লেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। লাদাখের ফিয়াংয়ে অবস্থিত তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস লাদাখ’ (HIAL)-এর অন্তর্গত ‘ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুল’-এর সমস্ত ধরনের পঠনপাঠন ও কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল প্রশাসন। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্টে বিচারাধীন জমি সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ওই চত্বরে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১. প্রশাসনের কড়া নির্দেশ ও নোটিসের নেপথ্য কারণ
-
লেহ তহশিলদারের নোটিস: গত ১ নভেম্বর লেহ তহশিলদারের দপ্তর থেকে এই মর্মে একটি সরকারি নোটিস পাঠানো হয়েছে HIAL-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রধান নির্বাহী গীতাঞ্জলি জে আংমো-কে (যিনি সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী)।
-
অনুমতিহীন কার্যকলাপের অভিযোগ: প্রশাসনের সাফ দাবি, প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র, সরকারি অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়াই ওই স্কুলে ক্লাস এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকলাপ বেআইনিভাবে শুরু করা হয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
২. জমি বরাদ্দ বাতিল ও আইনি লড়াই
এই সম্পূর্ণ সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে লিজ বা বরাদ্দ দেওয়া জমির অধিকার নিয়ে বিরোধ:
-
জমি বরাদ্দ বাতিল: স্থানীয় প্রশাসন ইতিপূর্বে HIAL-কে বরাদ্দ দেওয়া মোট ১০৭৬ কানাল (অর্থাৎ প্রায় ১৩৪.৫ একর) এবং ১ মরলা জমির বরাদ্দ সম্পূর্ণ বাতিল বলে ঘোষণা করেছিল।
-
হাইকোর্টের দ্বারস্থ প্রতিষ্ঠান: প্রশাসনের এই একতরফা সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই আইনি লড়াইয়ে নেমেছে ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্টে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
-
স্কুল পরিচালনার ছাড়পত্র বিতর্ক: গত ২২ সেপ্টেম্বর স্কুলের পরিচালন সমিতির প্রস্তাবিত নতুন সদস্যদের জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা অনাপত্তি চেয়ে গীতাঞ্জলি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের বক্তব্য হলো—যেহেতু জমির মালিকানা ও বরাদ্দ সংক্রান্ত মামলাটি বিচারাধীন, সেই অবস্থায় স্কুল চালু রাখা বা নতুন পদক্ষেপ করা আইনি নিয়মের পরিপন্থী।
৩. স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ
আদালতের চূড়ান্ত রায় বা পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান ও তার সমস্ত প্রতিনিধিকে কঠোরভাবে নিম্নলিখিত নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে:
-
স্কুল চত্বরে পঠনপাঠন বা অন্য কোনো কাজকর্ম করা যাবে না।
-
এমন কোনো পদক্ষেপ বা পরিবর্তন করা যাবে না যা বিচারাধীন মামলার ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘দিল্লিতে ইয়েস পাপা, বাংলায় ইয়েস ঘুসপেটিয়া’; শিলিগুড়ির মিছিলে ‘বঙ্গ পিসি’ মমতাকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর
৪. অতীতে সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন ও নতুন বিতর্ক
পরিবেশগত অধিকার ও লাদাখের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে বরাবরই সোচ্চার থেকেছেন সোনম ওয়াংচুক। এর আগে গত জুলাই মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘নিট-ইউজি’ প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও নৈতিক দায়বদ্ধতার দাবিতে টানা ২৬ দিন অনশন করার পর সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জেরে তা প্রত্যাহার করেছিলেন।
এবার লাদাখের নিজ ভূমে তাঁর স্বপ্নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্কুল বন্ধ রাখার এই প্রশাসনিক নির্দেশ ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।


