বিশেষ জাতীয় ও রাজনৈতিক সংবাদ প্রতিবেদন:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফের একপ্রস্থ প্রকাশ্য ও মুখোমুখি বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পঞ্জাবের একটি ‘ইনসাফ র্যালি’তে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা দাবি করেন যে, মুখোমুখি বিতর্কের সুযোগ পেলে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনি প্রমাণ করে দিতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী ‘দেশবিরোধী’ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। একই সঙ্গে সংসদে তাঁকে স্বাধীনভাবে কথা বলতে না দেওয়া এবং শিল্পপতিদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ পথ কুকুরদের জন্য ‘ফিডিং জোন’ ও ইলেকট্রিক চুল্লি সহ শ্মশান; একগুচ্ছ ঘোষণা অগ্নিমিত্রার
১. বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ও সঞ্চালক নিয়ে কটাক্ষ
-
বিতর্কের আহ্বান ও সময়সীমা: মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি বিতর্কের আহ্বান জানানোর পর বুধবার ফের সেই দাবি জোরালো করেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, বিতর্কের বিচারক বা সঞ্চালক কে হবেন, সেই সিদ্ধান্তও মোদী নিজেই নিতে পারেন।
-
ব্যঙ্গাত্মক প্রস্তাব: এমনকি বিদ্রূপের সুরে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত কিংবা শিল্পপতি গৌতম আদানিকেও সেই বিতর্কের বিচারক হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দেন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, “আপনারা চাইলে এনডিটিভির স্টুডিয়োতেও এই বিতর্কের আয়োজন করতে পারেন। শুধু মোদীজি আমার সামনে বসুন। তার পর আলোচনা হোক, কে দেশবিরোধী।”
-
সংসদে মাইক বন্ধের অভিযোগ: প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি বিতর্কে না আসার অভিযোগ তুলে রাহুল দাবি করেন যে, সংসদের ভিতরেও তাঁকে স্বাধীনভাবে বলতে দেওয়া হয় না এবং তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে ‘SIR’ বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়ে আলোচনার যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন, তার প্রেক্ষিতে রাহুলের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
২. ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ও ট্রাম্পের প্রভাবে কাজ করার অভিযোগ
-
চুক্তির নেপথ্যে চাপের তত্ত্ব: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে রাহুলের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র চাপের মুখেই ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন নরেন্দ্র মোদী। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে মন্ত্রিসভা বা আমলাদের কোনো রকম অবগতি ছাড়াই ওই চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ।
-
কৃষক ও ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থহানি: এই গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশের কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং জাতীয় তথ্যসম্পদ আমেরিকার হাতে সঁপে দেওয়া হয়েছে বলে তোপ দাগেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ আমুল বদলে যাবে শিলিগুড়ি; বিরাট পরিকল্পনা সরকারের
৩. আদানি প্রসঙ্গ এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ নিয়ে আক্রমণ
-
আদানির স্বার্থরক্ষা ও মামলা খারিজের দাবি: দেশের জমি, পরিকাঠামো এবং বিমানবন্দরগুলি শিল্পপতি আদানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রাহুল। পাশাপাশি, আমেরিকায় আদানির বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই মামলা বন্ধ করিয়ে দিয়েছেন—যা তাঁর তোলা অভিযোগের অন্যতম বড় প্রমাণ।
-
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ প্রসঙ্গ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত বছরের যুদ্ধ থামিয়েছিলেন। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ পর্যন্ত কোনো সদুত্তর বা জোরালো প্রতিবাদ জানাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন রাহুল গান্ধী।
কংগ্রেস নেতার এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।


