কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
কালিম্পং জেলার পাহাড়ি অরণ্যে ফের বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়াল। কালিম্পংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালতা ফরেস্ট (Chalta Forest)-এ বিধ্বংসী আগুন লাগার ফলে জঙ্গলের বিস্তীর্ণ এলাকার ছোট-বড় গাছপালা ভস্মীভূত হয়ে যাচ্ছে। রাতের নিস্তব্ধতা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রাজনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত প্যারাগুয়ে; উয়েনো ব্যাঙ্কের পতন, প্রেসিডেন্ট পেনার পদত্যাগ
১. আগুনের সূত্রপাত ও দ্রুত বিস্তার
-
কাশিয়ার গাছে আগুন ও মানবসৃষ্ট আশঙ্কার কারণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চালতা ফরেস্ট এলাকার শুষ্ক কাশিয়ার গাছে কেউ বা কারা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই প্রাথমিক উৎস থেকেই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বৃহত্তর জঙ্গলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
-
পাহাড়ি ঢাল ও জনবসতির ঝুঁকি: সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, জঙ্গলের পাশেই রয়েছে পাহাড়ি ঢাল। আগুনের শিখা যদি পাহাড়ের ওপরের ঘন জঙ্গলে সম্পূর্ণ পৌঁছে যায়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
২. বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক বিপর্যয়
-
বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট: চালতা ফরেস্টে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান বন্যপ্রাণী ও পাখির বিচরণ রয়েছে। আকস্মিক এই দাবানলের কারণে তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান ও অরণ্যভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
-
লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর আসার আশঙ্কা: জীববৈচিত্র্যের এই আকস্মিক বিপর্যয়ে প্রাণ বাঁচাতে ভীতসন্ত্রস্ত বন্যপ্রাণীরা জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ের দিকে চলে আসতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুনঃ সামশেরগঞ্জে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মেগা স্ট্রাইক; ৬,৩২৬ পিস ‘ইয়াবা’ ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার পাচারকারী
৩. প্রশাসন ও পরিবেশপ্রেমীদের জোরালো দাবি
-
পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি: পাহাড়ি অরণ্যে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডে প্রকৃতি ও পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশপ্রেমীরা।
-
দ্রুত পদক্ষেপ ও তদন্তের দাবি: অবিলম্বে বনদপ্তর ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এই নাশকতার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে চিহ্নিত করার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে বিভিন্ন মহল। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় এখন দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে সকলে।


