Friday, 6 November, 2026
6 November
Homeদক্ষিণবঙ্গBardhaman: একান্ন পীঠের রহস্যময় ঐতিহ্য; পূর্ব বর্ধমানের অট্টহাস সতীপীঠ

Bardhaman: একান্ন পীঠের রহস্যময় ঐতিহ্য; পূর্ব বর্ধমানের অট্টহাস সতীপীঠ

প্রাচীনকাল থেকেই এখানে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে বহু সিদ্ধসাধক দশ মহাবিদ্যার তন্ত্রসাধনা করেছেন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংক্রান্ত স্থান বিবরণী:

পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানার অন্তর্গত নিরোল পঞ্চায়েতের দক্ষিণডিহি গ্রামে ঈশানী নদীর (স্থানীয় নাম কন্দর নদী) তীরে ঘন জঙ্গলে ঘেরা এক নির্জন ও অলৌকিক পরিবেশে বিরাজ করছে প্রাচীন অট্টহাস সতীপীঠ। একান্ন সতীপীঠের অন্যতম পুণ্যময় এই পীঠস্থান ঘিরে যুগ যুগ ধরে জড়িয়ে রয়েছে পৌরাণিক কাহিনি, তন্ত্রসাধনার ইতিহাস এবং এক অদ্ভুত প্রাচীন বিগ্রহের রহস্যময় স্মৃতি।

আরও পড়ুনঃ  পৃথিবী থেকে চিরবিদায়ের ৪০০ বছরের মহাকাশযাত্রা! ‘CHRYSALIS’ নামের এক ভাসমান শহর

১. পৌরাণিক পটভূমি ও নামকরণের ইতিহাস

  • দেবী সতীর অঙ্গ পতন: পুরাণে বর্ণিত একান্ন পীঠের কাহিনি অনুযায়ী, ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খণ্ডিত দেবী সতীর অধঃওষ্ঠ বা নিচের ঠোঁট এই স্থানে পতিত হয়েছিল।

  • নামকরণ: সংস্কৃত শব্দ ‘অট্ট’ (অর্থ উচ্চ বা বিকট) এবং ‘হাস’ (হাসি) যুক্ত হয়ে ‘অট্টহাস’ নামের উৎপত্তি। দেবী সতীর অধর বা ঠোঁট পতিত হওয়ার কারণে এখানে দেবীকে ‘অধরেশ্বরী’ বা ‘ফুল্লরা’ নামে পূজা করা হয়। এখানকার ভৈরব হলেন ‘বিশ্বেশ’।

২. অনন্য বিগ্রহ ও লুপ্ত ‘দন্তুরা চামুণ্ডা’ মূর্তির রহস্য

  • প্রস্তরখণ্ড বিগ্রহ: অট্টহাস সতীপীঠে দেবীর সাধারণ কোনো মানব রূপের প্রতিমা নেই। এখানে ১৫ থেকে ১৮ ফুট দীর্ঘ একটি বিশালাকার প্রাচীন শিলাখণ্ডকেই সতীর অধঃওষ্ঠের প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়, যার গায়ে সাপের চিহ্ন খোদাই করা রয়েছে।

  • দন্তুরা চামুণ্ডার আদি বিগ্রহ: এককালে এই মন্দিরে অষ্টচামুণ্ডার অন্যতম রূপ ‘দন্তুরা চামুণ্ডা’-র এক বিরল ও প্রাক-মধ্যযুগীয় মূর্তি ছিল। কঙ্কালসার চেহারা, বুকের পাঁজর স্পষ্ট, বড় কান, বিস্ফারিত চোখ এবং মুখ থেকে বেরিয়ে থাকা কুকুরের মতো দুটি তীক্ষ্ণ দাঁত সহ দেবী বাম হাতে মাটিতে ভর দিয়ে ও ডান হাত হাঁটুতে রেখে এক অদ্ভুত ভঙ্গিতে আসীন ছিলেন। কথিত আছে, প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর প্রাচীন এই মূর্তির চোখের দিকে তাকালে সাধারণ মানুষ শিউরে উঠতেন।

  • মূর্তি রক্ষা ও স্থানান্তর: মধ্যযুগে বৈদেশিক আক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে মূর্তিটিকে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে উদ্ধার করা হলে ১৯১৫-১৬ সাল নাগাদ প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ নগেন্দ্রনাথ বসু আদি মূর্তিটি কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সংগ্রহশালায় নিয়ে যান। বর্তমানে মন্দিরে সেই বিগ্রহের একটি ছবি এবং কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত একটি নতুন মহিষমর্দিনী মূর্তি পূজিত হয়।

৩. পরিবেশ ও সাধনার পীঠস্থান

  • প্রাকৃতিক ও গা ছমছমে পরিবেশ: প্রায় ২৭ বিঘা জঙ্গলঘেরা এলাকার মধ্যে মন্দিরটি অবস্থিত। তন্ত্রশাস্ত্র মতে শক্তিপীঠের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নদী ও শ্মশান—উভয়ই এখানে বিদ্যমান। দিনে নানা রঙের প্রজাপতি ও পাখির কলতানে পরিবেশ শান্ত থাকলেও, রাতে প্যাঁচা ও শেয়ালের ডাকে জায়গাটি বেশ গা ছমছমে রূপ নেয়।

  • তন্ত্রসাধনা: প্রাচীনকাল থেকেই এখানে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে বহু সিদ্ধসাধক দশ মহাবিদ্যার তন্ত্রসাধনা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য AI টুলস বন্ধ করল গুগল

৪. কীভাবে পৌঁছাবেন?

  • রেলপথে: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে কাটোয়া জংশনে (Katwa Junction) নামতে হবে। কাটোয়া থেকে বাসে প্রায় ২৫ মিনিটে নিরোল বাসস্ট্যান্ড। নিরোল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মন্দিরে যাওয়ার জন্য টোটো বা রিকশা সহজলভ্য।

  • সড়কপথে: কলকাতার ধর্মতলা থেকে সরকারি বাসে (SBSTC) সরাসরি নিরোল পৌঁছানো যায়, সেখান থেকে টোটো ধরে পৌঁছানো যায় অট্টহাস সতীপীঠে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন