Wednesday, 3 June, 2026
3 June
HomeকলকাতাPhool Pishi O Edward: একটি রাজকীয় রহস্য যা কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়...

Phool Pishi O Edward: একটি রাজকীয় রহস্য যা কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয় না; ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড

ধন্যবাদ নন্দিতা রায় আর শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। আপনারা এমন গল্প নিয়ে বারংবার বাঙালির গল্পহীন শূন্য জীবনকে ভরিয়ে রাখুন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

রচনাঃ

আমার চোদ্দ বছরের মেয়ে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়ে বলল, ” তাহলে মা, মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু নয়” । চমকে উঠেছিলাম।  মনে হল ‘ ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড ‘ আমাদের জীবনের গেঁথে বসা ছোট ছোট অযৌক্তিক  ভাবনাগুলোকে ঝট করে উপড়ে ফেল দিল। আমার বাড়িতে পুরনো দিনের বাঙালি রান্নার একটি হোম ডাইনিং আছে, ‘ বেঙ্গল ঘরানা ‘। সেখানে প্রায়ই দেখি মহিলারা এসে বলেন এই যে বেঙ্গল ঘরানায় সাজিয়ে, গুছিয়ে মেয়েদেরও খেতে দেওয়া হয় সেটা সবচেয়ে আরামের। যে কোনও স্তরের মেয়েদের থেকেই এই কথাগুলো আসে, ‘ আমাদের তো আর কেউ সাজিয়ে গুছিয়ে খেতে দেয় না।’  মেয়েদের এই একেবারে মরমের  কথা ‘ ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড ‘ ছবির শেষ দৃশ্যে একটি সুন্দর ছন্দময় গানের মধ্যে দিয়ে আমরা দেখতে পাই। রাইমা সেন, সোহিনী সেনগুপ্ত, অনামিকা সাহা,অনন্যা চট্টোপাধ্যায়,শ্যামৌপ্তি মুদলি সহ আরও মেয়েরা পাত পেড়ে এলাহি খাবার সাজিয়ে হাস্যে,উল্লাসে খাচ্ছে। গান গাইছে। জয় সরকারের সঙ্গীত পরিচালনায় মুখরিত সেই গান! মেয়েদের সোচ্চার হয়ে এই  খাওয়ার আয়োজন সেকেলে অন্ধকারাচ্ছন্ন পিতৃতান্ত্রিক জমিদার বাড়িতে বিরল। মেয়েরা একজোট হলে ক্ষমতালোভী, নিষ্ঠুর পুরুষ যে কতটা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এই ছবি তা নানা মোড়কে বুঝিয়ে দেয়। ধন্যবাদ চিত্রনাট্যকার জিনিয়া সেনকে এই গল্পকে সেলুলয়েডে নিয়ে আসার জন্য।

রাজরাজাদের গল্প। মনীন্দ্রচন্দ্র রাজা ( অর্জুন চক্রবর্তী) । নির্দিষ্ট অঞ্চলে তার শাসন কায়েম আছে। সে মনে করে শস্য, প্রজা, মেয়ে,ছেলে, শিশু কন্যা  সব তার। যখন যাকে যেমন খুশি সে তার মুঠোর মধ্যে ধরে রাখবে। খাবে। ধ্বংস করবে।

আরও পড়ুনঃ মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ হাকিম

মনীন্দ্র বিয়ে করে। ধরা পড়ে সন্তান দিতে সে অক্ষম। নিজের ভাইকে স্ত্রীর সঙ্গে রাত্রিযাপন করিয়ে বংশ বৃদ্ধির রাস্তা বের করে সে। ভাই যোগেন্দ্র ( সাহেব চট্টোপাধ্যায়) আর  মনীন্দ্র  তাঁর প্রথম স্ত্রীকে ( কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়)ইচ্ছেমতো ভোগ করে। মেজাজি মনীন্দ্রচন্দ্র তার ভাই আর তার  প্রথমা স্ত্রীর কন্যাকেও  ভোগের বস্তু ভাবতে থাকে। অর্থ আর ক্ষমতা সঙ্গে থাকলেও দেখা যায় ক্রমশ সে সামর্থ্য হারাচ্ছে। তার শরীর দুর্বল হতে থাকে।

কিডনির কঠিন রোগে আক্রান্ত  রাজা তৃতীয়বার বিয়ে করতে উদ্যত হয় দ্বিতীয় স্ত্রী অদিতির (রাইমা) ছোটবোন বিনীতাকে (শ্যামৌপ্তি)। বিয়ের পণ হিসেবে চেয়ে নেয় বিনীতার কিডনি। কিন্তু বিয়ের আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজার মৃত্যু হয়। কেমন করে হল সেই মৃত্যু? বিয়ের নেমন্তন্ন খেতে আসা রাজার ফুলপিসি সেই মৃত্যু রহস্যের সমাধান করে।তার প্রিয় সঙ্গী এডওয়ার্ডকে ( বেড়াল) খুঁজতে খুঁজতে সোহিনী সেনগুপ্ত খুঁজে বার করেন রাজার খুনীদের। মেধা, বিচক্ষণ দৃষ্টি, হাস্যরস, নিয়ন্ত্রিত আবেগে অনবদ্য ফুলপিসি বা সোহিনী সেনগুপ্ত। এই ছবিতে বহু মেয়ে মুখ আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে রেখেছে দর্শকের ঔৎসুক্য। রাইমার আলগা সৌন্দর্য দর্শকের ভাললাগার সঙ্গে মিশে যায়। ভাল লাগে তাঁর অভিনয়। ফুলপিসির ছোটবেলা ফুটে ওঠে পুরুলিয়ার মেয়ে সেঁজুতির সরল অভিনয়ে।

ছবি দেখতে দেখতে পর্পকর্ন চেবানো দর্শক ভাবতে থাকে আসল খুনি কে? রাজার ছেলে?( সৌম্য মুখোপাধ্যায়) নাকি কুড়ি বছর ধরে গান আর নাচের মাধ্যমে রাজার রাত ভোলানো সঙ্গী পুতুলবাই? ( অনন্যা চট্টোপাধ্যায়)। বহু দিন পর এই ছবিতে অনন্যার  নাচ   ঋতুপর্ণ ঘোষের   ‘  আবহমান’ ছবির অনন্যাকে মনে পড়ায়।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলে তুলকালাম, মহাবিদ্রোহে বেসামাল তৃণমূল; সব কমিটি ভেঙে দিল দল

মৃত্যুরহস্য উন্মোচনের মাঝে সমাজজীবনের সত্যি ঘটনা বলতে থাকে এই ছবি।  প্রত্যেক মহিলা চরিত্রকে নিজের মতো করে ভাঙতে দিয়েছে এই গল্প। প্রত্যেকের একক পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। যেমন গল্পের বিনীতা বা শ্যামৌপ্তি মুদলি। সিনেমার নতুন মুখ। যখনই সে পর্দায় আসছে নিজের অভিনয় ধারায় মৌলিকত্বের ছাপ রেখে গিয়েছে। তার চরিত্র জানিয়ে যায় মেয়েরা কেবল বিয়ে, স্বামী, অর্থের পিছনে ছোটে না। শুধু নিজেকে ভালবেসে নিজের জায়গা তৈরি করতেও চায়।

ছবিতে শ্যামৌপ্তি যদিও ভালবাসে রাজা বা ঋষভকে। পুতুলবাইয়ের ছেলে রাজা। ছবিতে তার ওঠা পড়ার অভিনয় উল্লেখযোগ্য। এস্টেটের রাজা বা জমিদার যাকে ঘিরে গল্প চলে, তার ঘৃণ্য রূপ বিশ্বাসযোগ্য করেছেন অর্জুন চক্রবর্তী। নারী শরীরের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি আর হেয় জ্ঞান এই দুই বৈপরীত্য স্পষ্ট তাঁর অভিনয়ে। সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের চোখ কথা বলেছে এই চরিত্রে। তাঁকে দর্শক মনে রেখে দেবে। মনে থাকবে অনামিকা সাহার অভিনয়। শ্রীজাতর লেখা আর জয় সরকারের সুরে’ মনের চাবি ‘, ‘ আম পাতা’ ছবির ভাবনার মধ্যে মিশে লোকমুখে ফিরছে। এই ছবি একদিকে বনেদিয়ানা, আভিজাত্যের গল্প বলে অন্য দিকে কোথাও আজকের হয়ে ওঠে। এই দুই ভাবধারা অনুপম চট্টোপাধ্যায়ের পোশাক বিন্যাসে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

ধন্যবাদ নন্দিতা রায় আর শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। আপনারা এমন গল্প নিয়ে বারংবার বাঙালির গল্পহীন শূন্য জীবনকে ভরিয়ে রাখুন।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন