সোমেন দত্ত; কোচবিহারঃ
শিক্ষার আলো যেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে সেই প্রতিষ্ঠানেই অন্ধকারের কালো মেঘ। সকালে এসে পড়ুয়ারা দেখছে স্কুলের বারান্দা, মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মদের বোতল, পোড়া সিগারেট, গুটখার প্যাকেট। পড়াশোনা করার আগে সেসব পরিষ্কার করতে হচ্ছে তাদের। আর এতেই একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, ঠিক তেমনই লাটে উঠছে পড়াশোনা। মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবপুর হাইস্কুলের এমন ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানালেও কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বিরক্ত পড়ুয়া, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
আরও পড়ুনঃ কোচবিহারের দুর্গা বড়দেবীর পুজো শুরু, পাশে দুই সহচরী জয়া ও বিজয়া
ওই স্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়া মোসলেমা খাতুনের কথায়, ‘প্রতিদিন সকালে স্কুলে এসে মনে হয় যেন কোনও মদের দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছি। সীমানা প্রাচীর না থাকায় বহিরাগতরা ঢোকার সুযোগ পাচ্ছে।’ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা নামলেই স্কুলের আশপাশে বসছে অস্থায়ী মদের দোকান। ভিড় জমাচ্ছে বহিরাগতরা। স্কুলের বারান্দা, মাঠে বসছে আসর। আইনত কোনও স্কুলের ১০০ মিটারের মধ্যে নেশাজাতীয় কোনও দ্রব্য বিক্রি করা যায় না। দিনেরবেলা সেই নিয়ম পালন হলেও, সন্ধ্যা নামলেই স্কুলের আশপাশে বসছে অবৈধ দোকান। আর যার ফলে নষ্ট হচ্ছে স্কুলের পরিবেশ।
আরও পড়ুনঃ ধুন্ধুমার কাণ্ড শিলিগুড়ির খুদিরামপল্লীতে! হাতাহাতি ব্যবসায়ীদের
জগদীশ বর্মন নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘এসব বন্ধ করার জন্য অবিলম্বে স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা প্রয়োজন। তাছাড়া স্কুল সংলগ্ন এলাকায় রাতের অন্ধকারে অস্থায়ী নেশা দ্রব্যের দোকান বন্ধ করতে হবে।’ ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী দিলীপ সরকার জানালেন, শুধু নেশার আসর বসছে এমন নয়। মাঝেমধ্যেই স্কুলের বিভিন্ন দরজার তালা, জানলা ভাঙচুর করা হচ্ছে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক গৌতমকুমার বর্মনের বক্তব্য, ‘মাথাভাঙ্গার এসডিপিও এবং মাথাভাঙ্গা থানার আইসির কাছে অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।’ স্কুলের এই সমস্যা নিয়ে বলতে গিয়ে মাথাভাঙ্গার অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মনোজকুমার মণ্ডলের আশ্বাস, ‘জোড়শিমুলি হাইস্কুলেও এই ধরনের ঘটনা ঘটছিল। আমরা সকলে মিলে সেই সমস্যার সমাধান করেছি। এখানেও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমানা প্রাচীর তৈরির প্রস্তাব ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠনো হয়েছে। অর্থ এলেই নির্মাণকাজ শুরু হবে।’ এদিকে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক চাইছেন এলাকার মানুষজন।



