Friday, 17 April, 2026
17 April
HomeকলকাতাWest Bengal: বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত! ভোটের মুখে ADB-থেকে ২৫০০ কোটি ঋণ নিচ্ছে...

West Bengal: বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত! ভোটের মুখে ADB-থেকে ২৫০০ কোটি ঋণ নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ভোটের বছর শুরু হওয়ার আগেই বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যেই এই ঋণ অনুমোদন পেতে পারে রাজ্য। এই অর্থ ব্যয় করা হবে পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প করিডর গড়ে তোলার জন্য। একদিকে যেমন সরকার এই সিদ্ধান্তকে উন্নয়নের মাইলফলক বলে দাবি করছে, অন্যদিকে ভোটের ঠিক আগে এত বড় ঋণ নেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ও বিতর্কও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর সভা বলে কথা! ধুলো-মুক্ত রাখতে হবে; সিঙ্গুরে স্প্রিংকলার গাড়ি পাঠাল কলকাতা কর্পোরেশন

রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ছয়টি শিল্প করিডরের মাধ্যমে শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজ্যের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা হবে। যে ছয়টি করিডর গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, সেগুলি হল— রঘুনাথপুর–তাজপুর, ডানকুনি–ঝাড়গ্রাম, ডানকুনি–কল্যাণী, খড়্গপুর–মোরগ্রাম, ডানকুনি–কোচবিহার এবং পুরুলিয়া–কলকাতা। এই করিডরগুলি রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম— সব দিককে যুক্ত করবে বলে দাবি প্রশাসনের।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই শিল্প করিডরগুলির মূল লক্ষ্য হবে উৎপাদন শিল্প, লজিস্টিক্স, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং পরিষেবা ক্ষেত্রকে এক ছাতার নিচে আনা। বিশেষ করে তাজপুর বন্দরকে কেন্দ্র করে রঘুনাথপুর–তাজপুর করিডরকে ভবিষ্যতের ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ডানকুনি থেকে কোচবিহার পর্যন্ত করিডর উত্তরবঙ্গের শিল্প সম্ভাবনাকে নতুন দিশা দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক অতীতেও ভারতের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও শিল্প প্রকল্পে অর্থ সাহায্য করেছে। ২০২৩ সালে দেশের জাতীয় শিল্প করিডর ও নীতিগত সংস্কারের জন্য ADB-এর বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদনের নজির রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গের এই প্রস্তাব নতুন নয় বলে দাবি রাজ্য সরকারের। রাজ্যের অর্থ দফতরের বক্তব্য, এই ঋণ দীর্ঘমেয়াদি এবং তুলনামূলক কম সুদের হওয়ায় রাজ্যের আর্থিক বোঝা খুব বেশি বাড়বে না।

তবে বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্তকে ‘ভোটমুখী ঋণনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের অভিযোগ, ভোটের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে বিপুল ঋণ নেওয়া হচ্ছে, যার বোঝা ভবিষ্যতে রাজ্যের সাধারণ মানুষকেই বইতে হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ঋণের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। বিরোধীদের আরও দাবি, শিল্প করিডরের নামে অতীতেও একাধিক প্রকল্প ঘোষিত হলেও বাস্তবে তার পূর্ণ সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়নি।

আরও পড়ুনঃ ফুটবলের প্রতি বাঙালির ভালোবাসা অমলীন; ক্ষুদে ফুটবল প্রতিভা খুঁজতে টুর্নামেন্ট, উদ্যোগ ভেটারেন্স ক্লাবের

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, শিল্পায়ন ছাড়া রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে বড় শিল্প প্রকল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। এই করিডরগুলির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলিও শিল্প মানচিত্রে জায়গা পাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঋণ এবং শিল্প করিডর প্রকল্প আগামী দিনের ভোটের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সরকার এটিকে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইবে, আর বিরোধীরা ঋণের বোঝা ও সম্ভাব্য দুর্নীতির প্রশ্ন তুলে আক্রমণ শানাবে। সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে ২৫০০ কোটি টাকার এই ঋণ শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন