২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা মিটলেও বাংলা জুড়ে রক্তক্ষয়ী হিংসার বিরাম নেই। এবার ভোট-পরবর্তী হিংসার বলি হলেন নদীয়ার কল্যাণীর গয়েশপুরের এক যুবক। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর নিথর দেহ। চারদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর অবশেষে কল্যাণীর এইমস-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃতের নাম পাপাই সরকার (২৬)। তিনি গয়েশপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং তাঁর পরিবার কট্টর তৃণমূল সমর্থক হিসেবে পরিচিত। পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, ভোট মিটতেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পাপাইকে পিটিয়ে খুন করেছে। যদিও পদ্মশিবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে একে ‘দুর্ঘটনা’ বলে দাবি করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কল্যাণী জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পারদ নামবে ৩ ডিগ্রি, কলকাতায় ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দীপ সরকারের একমাত্র ছেলে পাপাই সরকার ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই বহিরাগত দুষ্কৃতীদের হুমকির জেরে এলাকাছাড়া ছিলেন। পরিস্থিতি কিছুটা থিতু হতে গত ২০ মে তিনি গয়েশপুরের বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু ঘরে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিখোঁজ হয়ে যান পাপাই। পরে পরিবারের কাছে খবর আসে, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার পাশে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তিনি। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
রক্তাক্ত অবস্থায় পাপাইকে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে সেখান থেকে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। শেষমেশ উন্নত চিকিৎসার আশায় পুনরায় কল্যাণীর এইমস হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছেলের মৃত্যুর খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা ও পরিজনরা।
আরও পড়ুনঃ হেস্টিংসে পুর-গাফিলতির বলি শিশু
মৃতের বাবা সন্দীপ সরকারের অভিযোগ, “আমরা তৃণমূল করি বলেই ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে বিজেপি ঘনিষ্ঠরা আমাদের পরিবারকে টার্গেট করেছিল। ছেলেকে বাঁচাতে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু ফেরার পরেই ওকে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে খুন করল। এটা কোনও অ্যাক্সিডেন্ট নয়, পরিকল্পনা করে হত্যা।” এই মর্মে কল্যাণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির পাল্টা দাবি, এটি একটি পথ দুর্ঘটনা। রাজনীতির সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে মৃত্যুর আসল কারণ। আমরাও চাই, পাপাইকে যদি কেউ খুন করে থাকে, তবে পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক।”



