তৃণমূলের অন্দরে চরম ডামাডোলের মাঝেই এবার জল্পনা শুরু হয়েছে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের এক সদস্যকে নিয়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের মেগা বৈঠকে মমতার ভ্রাতৃবধূ তথা ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে এই জল্পনা নিয়ে এবার নিজেই মুখ খুললেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ সাবধান বাম-কংগ্রেস-বিজেপি! ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক-সাংসদ, খোদ মমতার ‘নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ’!
বৈঠকে কি উপস্থিত ছিলেন কাজরী?
নিউ টাউনের একটি হোটেলে ঋতব্রত শিবিরের ওই বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করা হয়। রটে যায়, ঘরের সদস্য হয়েও মমতার বিরুদ্ধে গিয়ে ওই বৈঠকে নাম লিখিয়েছেন কাজরী। তবে সংবাদমাধ্যমকে তিনি স্পষ্ট জানান, ওই বৈঠকে তিনি ছিলেন না। কাজরী বলেন, “আমি আউট অফ স্টেশন ছিলাম। বোলপুরে থাকায় ওই বৈঠকে যেতে পারিনি, তবে আমাকে ডাকা হয়েছিল।”
আগামী দিনে কি নয়া তৃণমূলে যোগ দেবেন?
আগামী দিনে বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠকে তিনি যাবেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে জল্পনা আরও কিছুটা উসকে দিয়েছেন কাজরী। তিনি সাফ জানান, “ডাকা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিশ্চয়ই যাব।”
অন্যদিকে, দলের চেয়ারপার্সন পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপসারণ এবং অভিষেককে সাসপেন্ড করার মতো চরম পদক্ষেপের বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ তিনি। কাজরীর কথায়, “ওখানে ঠিক কী আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা আমি সঠিক জানি না। আগে সকলের সঙ্গে একটু আলোচনা করে নিই, তারপর জানাব।”
আরও পড়ুনঃ ব্যর্থ তৃণমূল কাউন্সিলরদের মরিয়া চেষ্টা; শিলিগুড়ির দায়িত্বে প্রশাসক আর বিমলা
ধোঁয়াশা বজায় রাখলেন কাজরী
উল্লেখযোগ্যভাবে, দিনকয়েক আগেই কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা গিয়েছিল কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেসময় তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের ওয়ার্ডের উন্নয়নের স্বার্থে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চান। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি দিদির পাশেই থাকবেন, নাকি ঋতব্রতদের নয়া তৃণমূলে নাম লেখাবেন, সেই বিষয়ে নিজের অবস্থান এখনও স্পষ্ট করেননি মমতার ভ্রাতৃবধূ।


