বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব হল জামাই ষষ্ঠী। এই বিশেষ দিনে জামাইকে সম্মান জানানো, পরিবারের মঙ্গল কামনা করা এবং আত্মীয়তার বন্ধন আরও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে নানা আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জামাই ষষ্ঠী পালিত হবে ২০ জুন, আজ শনিবার।
আরও পড়ুনঃ “যতই করো হামলা ষষ্ঠী করবে বাংলা”; ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে!
ভারতীয় সংস্কৃতিতে পারিবারিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার জন্য বিভিন্ন উৎসবের প্রচলন রয়েছে। জামাই ষষ্ঠী সেই ধরনেরই একটি উৎসব, যা বিশেষভাবে বাঙালি সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে মেয়ে ও জামাইকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়ে পরিবারের সকল সদস্য একত্রিত হন এবং আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব পালন করেন।
‘জামাই ষষ্ঠী’ নামটির মধ্যেই উৎসবের তাৎপর্য লুকিয়ে রয়েছে। ‘জামাই’ অর্থ মেয়ের স্বামী এবং ‘ষষ্ঠী’ অর্থ চান্দ্রমাসের ষষ্ঠ তিথি। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালিত হওয়ার কারণেই এই উৎসবের নাম জামাই ষষ্ঠী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং পারিবারিক সম্পর্কের উৎসবে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা
উৎসবের দিন শাশুড়ি নিজের মেয়ে ও জামাইকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। জামাইকে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে বরণ করে নেওয়া হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, শাশুড়ি জামাইয়ের কপালে তিলক পরিয়ে দেন, কব্জিতে হলুদ সুতো বেঁধে দেন এবং আরতি করে তাঁর দীর্ঘায়ু, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এই উপলক্ষে বাড়িতে নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার, মিষ্টি এবং মৌসুমি ফলের আয়োজন করা হয়। অনেক পরিবারে জামাইকে ছয় ধরনের ফল ও একাধিক বিশেষ পদ পরিবেশন করার রীতিও প্রচলিত রয়েছে।
বাঙালি সমাজে জামাই ষষ্ঠী শাশুড়ি ও জামাইয়ের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্নেহ এবং সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দিনে জামাই ও মেয়েকে নতুন পোশাক, উপহার, শাড়ি কিংবা গয়না দেওয়ারও প্রথা রয়েছে। তাই জামাই ষষ্ঠী শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব নয়, বরং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং পারস্পরিক বন্ধনকে আরও মজবুত করার এক বিশেষ উপলক্ষ।


