দলের অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের আবহে বড় ধাক্কা তৃণমূলের। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা দলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল পুলিশ। এর ফলে এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে আপাতত কোনও টাকা তোলা বা লেনদেন করা যাবে না। এর পাশাপাশি আর কোথায় কোথায় প্রাক্তন শাসক দলের অ্যাকাউন্ট আছে সেটাও জানার চেষ্টা হচ্ছে ৷ তাতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে সেগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে ৷
আরও পড়ুনঃ থানা ঘেরাও, হামলার চেষ্টা! ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের স্ত্রীও গ্রেফতার
জানা গিয়েছে, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে বর্তমানে মোট ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। তৃণমূলের এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। সম্প্রতি দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে অ্যাকাউন্ট থেকে যাবতীয় আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর সই করা কিছু অব্যবহৃত বা ব্ল্যাঙ্ক চেকের অপব্যবহার হতে পারে।
প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপের পরই আসরে নামেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের বিধায়করা। ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ পন্থী বিধায়করা বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্টের নম্বর উল্লেখ করে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে বা অস্বচ্ছ উৎস থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা করা রয়েছে। দ্রুত তদন্ত না হলে এই ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ নষ্ট বা স্থানান্তরিত হতে পারে বলেও তাঁদের আশঙ্কা ।
বিধায়কদের এই অভিযোগ পাওয়ার পর তৎপর হয় বিধাননগর সাইবার থানার পুলিশ। তারা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ওই তিনটি অ্যাকাউন্টের ডেবিট ট্রানজাকশন বন্ধ বা ‘ডেবিট ফ্রিজ’ করতে বলে। পুলিশ সূত্রের খবর, এই তিনটি অ্যাকাউন্ট ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্য যে সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলির সন্ধান চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে সেগুলিতেও একইভাবে লেনদেন বন্ধ করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে, দলের এই বিপুল পরিমাণ তহবিল অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় তৃণমূলের অস্বস্তিতে আরও বাড়ল ৷
গত বৃহস্পতিবার এই অভাবনীয় বিতর্কের জের পৌঁছয় খোদ বিধানসভায়। নিজেকে ‘আসল তৃণমূল’-এর বিরোধী দলনেতা হিসেবে তুলে ধরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই দলের তহবিলে কালো টাকা জমা হওয়ার বিষয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দলের অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অর্থ বা কাটমানি ঢুকতে পারে। তাই স্বচ্ছতার স্বার্থে এবং দুর্নীতির হাত থেকে দলকে বাঁচাতে অবিলম্বে ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা প্রয়োজন।


