কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
শিলিগুড়ি পৌরনিগমে মেয়র পদ থেকে গৌতম দেব পদত্যাগ করতেই ক্ষমতা দখলে তৎপর তৃণমূলের এক অংশ। অন্যদিকে তার বিরোধিতায় একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ। এদিনও পদত্যাগ করতে পারেন আরও কিছু তৃণমূল কাউন্সিলর। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বোর্ড নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ৭২ ঘন্টার সময় বেঁধে দিল সরকার।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে সরলেন গৌতম দেব, পদত্যাগ মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর ও আলিপুরদুয়ারের পুরপ্রধানদের
শুক্রবার গৌতম দেব পদত্যাগ করতেই শিলিগুড়িতে ক্ষমতা দখলে সচেষ্ট তৃণমূলের এক অংশ। শুক্রবার বিকেলেই কাউন্সিলরদের এক অংশের বৈঠকে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারকে দলনেতা ও মেয়র পারিষদ সঞ্জয় পাঠককে উপ দলনেতা নির্বাচন করা হয়েছে। তৃণমূল সুত্রে খবর, ঐক্যমতে পৌঁছান গেলে রঞ্জন সরকার মেয়র ও সঞ্জয় পাঠক ডেপুটি মেয়র হওয়ার চেষ্টা করবেন।
যদিও তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর অবশ্য অন্য মত। ইতিমধ্যেই কাউন্সিলর পদে পদত্যাগ করেছেন সেবিকা মিত্তল, দিলীপ বর্মন। আজ শনিবার পদত্যাগ করতে পারেন মেয়র কমল আগরওয়ালা। ফলে নাটক যে পুরোমাত্রায় জমে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলছেন, পরিষেবার প্রশ্নেই বোর্ড রাখিতে চাইছি আমরা। সরকার কি করবে সিদ্ধান্ত নিক। এবারে মেয়র পারিষদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মানিক দে। একের পর এক ইস্তফা নিয়ে যখন গোটা শিলিগুড়ি শোরগোল লেগে গেছে সেই সময় শিলিগুড়ি 13 নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং এমএমআইসি মানিকদে এমএমআইসি পদ থেকেই ইস্তফা দিলেন। তিনি জানালেন ব্যক্তিগত কারনেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম আমি মনে করি আরো ছয় মাস মানুষের জন্য কাজ করে যেতে পারবো। আপাতত যে পদে আছি সেটা নিয়েই মনসংযোগ করতে চাই । তিনি আরো জানালেন আগামী দিনে যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই কারণে এই সিদ্ধান্ত নিলাম
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরই গৌতম দেবেরই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল দলেরই অন্দরে। যে শহরে মেয়র হিসেবে ৪ বছর কাজ করেছেন তিনি সেই শহরের সব ওয়ার্ডেই পরাজিত হয় তৃণমূল। ফলে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগেই কলকাতায় এসেছিলেন গৌতম দেব। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করেন। তারপরই তাঁর ইস্তফা।


