২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতার ধর্মতলায় সুবিশাল সমাবেশ করলো বাংলা পক্ষ।
বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারে হাজারে বাঙালি কলকাতায় বাঙালির মহাসমাবেশে ভিড় জমিয়েছিল।
যখন ভারতে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় ও অন্যান্য কিছু রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকরা শুধুমাত্র বাঙালি হওয়ার কারণে রোজ মার খাচ্ছে এবং খুন হচ্ছে বাংলাদেশী সন্দেহে, যখন দেশভাগের বলি উদ্বাস্তু বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে SIR এর মাধ্যমে, যখন বাংলায় চাকরি-বাজার-পুঁজিতে অধিকার কায়েম করে বসে আছে বহিরাগতরা তখন বাঙালির এই মহাসমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ৷
আরও পড়ুনঃ কুয়োয় পড়ল হাতি! চার ঘণ্টার চেষ্টায় উঠল হাতি
২০২৬ এ বাংলা পক্ষ ভোটে লড়বে না, কিন্তু বাঙালির অধিকারের ইস্যুগুলোকে ভোটের মূল ইস্যু করে তুলতেই এই সমাবেশের ডাক৷ হিন্দু-মুসলিম, গীতা-কোরান, মন্দির-মসজিদ রাজনীতির বাইরে বাঙালির চাকরি, বাঙালির কাজ, বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের নিরাপত্তা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করা, বাঙালি তথা ভূমিপুত্র বিধায়কের দাবিগুলোকে সামনে রেখেই এই সমাসমাবেশ। বাঙালি যাতে হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি ছেড়ে AI শেখে, প্রযুক্তি নির্ভর জাতি হয়, যাতে আমলা হয়, ব্যবসায়ী হয়- সেই ভবিষ্যতের বাংলা গড়ার ডাক দেওয়া হয়। বাঙালির রক্তে স্বাধীন ভারতের সেনায় বাঙালি রেজিমেন্ট নেই। সেনায় বীর সুভাষের জাতির রেজিমেন্টের দাবি ছিল অন্যতম মুখ্য ইস্যু।
এই সমাবেশের মূল দাবি হল চাকরি- কাজ- টেন্ড্রারে ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণ। বাঙালি যখন অন্য রাজ্যে আক্রান্ত হচ্ছে, তখন দুকোটি বহিরাগত বাংলায় লুটেপুটে খাচ্ছে। তাই দাবি হল বাংলায় বাঙালির কাজ চাই।
বিধানসভা ভোটের প্রাক কালে রাজনৈতিক দলগুলোকে বার্তা দেওয়া হয়- বাংলায় হিন্দি-উর্দু তোষণ চলবে না৷ বাংলায় রাজনীতি করতে গেলে বাঙালিকেই প্রাধান্য দিতে হবে।
SIR এ কোনো বৈধ বাঙালি মানে ঘটি হিন্দু ও ঘটি মুসলমান বাঙালি, দেশভাগের বলি হওয়া কোনো উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির ভোটাধিকার কাড়া যাবে না। CAA এর ভাঁওতা না। উদ্বাস্তুদের অবিলম্ব ও নিঃশর্ত নাগরিকত্ব চাই।
এবং যে লাখ লাখ ভিন রাজ্যের ক্রিমিনাল দু রাজ্যের ভোটার কার্ড নিয়ে বাংলায় আছে, তাদের বাংলার ভোটার কার্ড বাতিল করতে হবে।
সভা থেকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়, রবি ঠাকুরের জন্মস্থান জোড়াসাঁকো এবং কবি নজরুল ইসলামের জন্মস্থান জামুড়িয়ায় কোনো বহিরাগত বিধায়ক চলবে না। বিবেক গুপ্তা ও হরেরাম সিং বা অন্য কেউ বহিরাগত প্রার্থী হলে তাকে হারাতে মাঠে নেমে লড়বে বাংলা পক্ষ।
আরও পড়ুনঃ আমরা শুধু মনে রেখেছি সূর্য সেনকে, বিলুপ্ত হয়ে গেছেন ‘ফুটু দা’! সূর্যের আড়ালে ঢাকা আগুন
সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বাঙালির মহাসমাবেশে প্রবেশ করতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে বাঙালি৷ বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলা পক্ষ ভোটে না থাকলেও, বাংলা পক্ষ বাংলার বিধানসভা ভোটে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাঙালির স্বার্থে লড়াই করা এবং বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় কাজ পাইয়ে দেওয়ার লড়াই চলবে। ২০২৬ এ বাঙালির শত্রুদের ভোটে ধুলিস্যাৎ করতে ময়দানে থাকবে বাংলা পক্ষ। বাংলায় চাকরি- কাজ- টেন্ডার ও সর্বত্র ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণকেই পাখির চোখ করছে বাংলা পক্ষ।”
সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, “বাংলা পক্ষর আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এতবড় সমাবেশ করা দেখালো বাংলা পক্ষ। ভোটে লড়া দল না হয়েও, বাংলা পক্ষর ডাকে হাজারে হাজারে বাঙালি ছুটে এল এই সমাবেশে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোক পরিষ্কার বলছি- এই দেওয়াল লিখন পড়ুন। বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক, বাঙালির চাকরি -কাজ-ব্যবসা, বাঙালি রেজিমেন্ট, ভূমিপুত্র প্রার্থী ইত্যাদি জ্বলন্ত ইস্যুগুলোকে আমরা ভোটের ইস্যু করেই ছাড়বো৷”
মহা সমাবেশে দুজন মহিলা বক্তা শীর্ষ পরিষদ সদস্যা করবী রায় ও জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্যা প্রীতি মিত্রর বক্তব্যে বারবার বাঙালি নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালি নারীর ভূমিকা এবং আগামীতে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বাঙালি হিসাবে নারীদের কি কি ভূমিকা নিতে হবে সেই কথা উঠে আসে।
বাঙালি ছাড়াও রাজবংশী, লেপচা, সাঁওতাল, রাভা ইত্যাদি ভূমিপুত্র জাতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিল এই সমাবেশে।









