বিশেষ অর্থনৈতিক প্রতিনিধি, মুম্বই:
ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক-সহ ভারতে ‘কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা’ (স্যাটকম)-র বাজারে যে কোনো বিশ্বমানের সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত মুকেশ অম্বানীর রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। তবে প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ভারতের সার্বভৌম আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো কঠোরভাবে মেনে চলার কড়া শর্তও সাফ জানিয়ে দিল সংস্থাটি। শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রিলায়্যান্স জিয়োর পরিচালনা পর্ষদ আন্তর্জাতিক মহলকে এই বার্তা দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেলব’, এবার দেশবিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি অমিত শাহর
ইলন মাস্কের আক্রমণ ও জিয়োর কড়া প্রতিক্রিয়া
ভারতে স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে না পারা নিয়ে রিলায়্যান্স ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত তোপ দেগে যাচ্ছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। এমনকি শাসকদলের মদতে অম্বানী দেশবাসীকে শোষণ করছেন বলেও কিছুদিন আগে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। এই আবহে শুক্রবার জিয়োর পরিচালক সংস্থার তরফে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়, *”আমরা স্টারলিঙ্ক-সহ উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টারনেট যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানাই। তবে জিয়ো-সহ প্রতিটি সংস্থাকেই ভারতের জনগণের সেবা করতে হবে এবং দেশের আইন ও নীতি মেনেই তা করতে হবে।”*
চড়া খরচ ও ভারতের বাজারের বাস্তব চিত্র
অন্যদিকে, দেশে কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে রিলায়্যান্স জিয়ো। মুম্বইয়ে জিয়োর এক শীর্ষকর্তা আন্তর্জাতিক এই পরিষেবার খরচের সঙ্গে ভারতীয় বাজারের অর্থনৈতিক পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেছেন:
গ্রাহক খরচ:
ভারতে স্টারলিঙ্কের মতো পরিষেবা নিতে মাসে যেখানে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত গুণতে হতে পারে, সেখানে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে অত্যন্ত দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক দিচ্ছে জিয়ো।
আরও পড়ুনঃ ষষ্ঠীর সকালে কামারকুণ্ডু স্টেশনে তুমুল যাত্রী বিক্ষোভ; প্রায় এক ঘন্টা দাড়িয়ে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস
বিকল্প প্রযুক্তি:
দেশে ফাইবার অপটিক্স ভিত্তিক ‘ফিক্সড ওয়্যারলেস সংযোগ’ অনেক সহজলভ্য ও সস্তা। তাই চড়া দামের কারণে সাধারণ গ্রাহকের কাছে স্যাটকমের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়া অত্যন্ত কঠিন।
আগামী ২১ অক্টোবর জিয়োর প্রথম শেয়ার বাজারে আসার (IPO) আগে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সেবি’ (SEBI)-র কাছে জমা দেওয়া নথিতেও স্যাটকম প্রযুক্তি এবং চড়া খরচকে নিজেদের ব্যবসা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। শিল্প মহলের একাংশের মতে, অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে সামনে এনে আমেরিকার ধনকুবেরের ধারাবাহিক দোষারোপের যোগ্য জবাবই দিল ভারতের বৃহত্তম টেলিকম সংস্থা।


