আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সীমান্ত অঞ্চল অর্থাৎ ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার উত্তেজনার পারদ ফের চরমে উঠেছে। কিন্তু আফগান বাহিনীকে তোপ দাগতে গিয়ে সীমান্তেই নজিরবিহীন ও চরম লজ্জাজনক বিপর্যয়ের মুখে পড়ল পাকিস্তান সেনা। আফগান ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ভারী গোলাবর্ষণ করার সময় খোদ পাকিস্তানের একটি বিশাল কামানই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়ে উড়ে গিয়েছে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন পাকিস্তানি জওয়ান। আর এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে উঠে আসছে চিন থেকে আমদানি করা সামরিক সরঞ্জামের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও মারাত্মক নিম্নমানের বিষয়টি।
আরও পড়ুনঃ মর্গের সামনে গাড়ির পর গাড়ি; উৎসবের গেরুয়া শহরে এখন শুধু বিসর্জনের সুর
সীমান্ত যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও বিস্ফোরণের মুহূর্ত
আন্তর্জাতিক সীমান্ত ডুরান্ড লাইন বরাবর গত কয়েক দিন ধরেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তুমুল খণ্ডযুদ্ধ ও উত্তেজনা চলছে। আফগান সীমান্ত চৌকিগুলিকে নিশানা করে ভারী গোলাবর্ষণের উদ্দেশ্যেই পাকিস্তান সেনা তাদের আর্টিলারি বা কামান প্রস্তুত করেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিরক্ষা সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, পাক সেনারা যখন চিনা প্রযুক্তির তৈরি ওই ভারী কামানটি থেকে শট বা গোলা ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। গোলাটি কামানের নল থেকে বের হওয়ার বদলে ভেতরের চেম্বারেই বিকট শব্দে ফেটে যায়। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড অভিঘাতে কামানের মূল কাঠামোটি টুকরো টুকরো হয়ে ছিটকে যায়। কামানের কাছেই দায়িত্বে থাকা ৩ জন পাক সেনা সদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
আরও পড়ুনঃ চোরবাগানকাণ্ডে অস্থায়ী হোমগার্ডদের দিকে অভিযোগের আঙুল শুভেন্দুর
চিনা অস্ত্রের গুণগত মান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন
এই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চিনের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাকিস্তান তাদের সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা বাড়াতে গত কয়েক বছরে বেজিংয়ের তৈরি যুদ্ধাস্ত্র, কামান ও সাঁজোয়া যান বিপুল পরিমাণে কেনাকাটা করেছে।
তবে ডুরান্ড লাইনের এই নজিরবিহীন ঘটনাটি প্রমাণ করে দিল যে চিনের তৈরি সামরিক সরঞ্জাম কতটা অনির্ভরযোগ্য ও বিপদজ্জনক হতে পারে। শত্রুপক্ষ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে গিয়ে নিজেদের অস্ত্রের বিস্ফোরণে নিজস্ব জওয়ানদের প্রাণ হারানো এবং চিনা কামানের এই অকেজো রূপ এখন বিশ্বজুড়ে চর্চার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে।


