বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
বহু বছরের ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল হিসেবে পরিচিত দিল্লির যন্তর মন্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল প্রশাসন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, এখন থেকে যন্তর মন্তরে আর কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা যাবে না। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চাওয়ার আইনি টানাপড়েনের মাঝেই এই আকস্মিক নির্দেশিকা ঘিরে জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে।
কোথায় হবে এবার প্রতিবাদ? চিহ্নিত হল ৩টি নতুন জায়গা
দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের সই করা ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য রাজধানীর ৩টি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে:
-
রামলীলা ময়দান (পুরানো দিল্লি)
-
বুরারি মাঠ (উত্তর দিল্লি—যন্তর মন্তর থেকে প্রায় ৪৪ কিমি দূরে)
-
পূর্ব দিল্লির সিবিডি মাঠ (পূর্ব দিল্লি—যন্তর মন্তর থেকে প্রায় ১৩.৫ কিমি দূরে)
ঐতিহাসিক মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে এই নতুন স্থানগুলির দূরত্ব যথাক্রমে ৩ কিমি, ১৩.৫ কিমি এবং ৪৪ কিমি দূরে অবস্থিত। এই জায়গাগুলিতে জমায়েত বা প্রতিবাদ কর্মসূচি করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম বা এসওপি (SOP) খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ জার্মানি থেকে ভারতে এসেই বেলুন চুপসে গেলো! ‘সিজেপির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই’; দাবি ধ্রুবর
চলতি বছরের গত ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশের জারি করা নির্দেশিকাতেই যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের বৈধ জায়গা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মাথায় অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ পুলিশ এই সিদ্ধান্ত বদল করল কেন?
প্রশাসনের একাংশের মতে, যন্তর মন্তরের আশপাশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর ও সংসদীয় ভবন চত্বর থাকায় সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলির জেরে চলা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল। সেই কারণকেই সামনে রেখে শহরের মূল কেন্দ্রস্থল থেকে আন্দোলনগুলিকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলির লাগাতার আন্দোলন ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে উত্তাল রাজধানীর বুকে যন্তর মন্তরে কড়াকড়ি এবং নতুন প্রতিবাদস্থল চাপিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।


