বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা:
নিউ মার্কেটের মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের একটি ঘিঞ্জি গেস্ট হাউসে মঙ্গলবার গভীর রাতে লাগা ভয়াবহ আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। মৃত ৯ জনের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং ২ জন ভারতীয়। ঘটনায় বেপরোয়া অনিয়ম ও দমকল বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে লিজ়প্রাপক আবু জ়াফরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হোটেলের মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্র এখনও পলাতক।
মৃতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার কারণ
-
মৃতদের তালিকা: নতুন করে শনাক্ত হওয়া মৃত বাংলাদেশের দুই নাগরিক হলেন সাতক্ষীরার বাসিন্দা এসএম আলিমুজ্জামান (৪৫) ও রেবতী সরকার। এর আগে একই পরিবারের চার বাংলাদেশি—আক্রম আলি (৭৪), সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), আফসানা শারমীন (২৭) ও শিশু স্বর্ণশীষ দত্ত (২ বছর ৮ মাস) সহ বাবু আহমেদ (৩৭)-এর মৃত্যুর খবর মেলে। মৃত দুই ভারতীয় হলেন শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ অগ্রবাল (৬৮) এবং রিসেপশনিস্ট গিরিডির সন্দীপ পাসোয়ান (১৯)।
-
দুর্ঘটনার উৎস: শর্ট সার্কিট থেকে রিসেপশনে আগুন লেগে তা দ্রুত ছড়ায়। ১,১০০ বর্গফুটের ছোট ফ্ল্যাটে কাঠের ফল্স সিলিং ও স্লাইডিং ডোর থাকায় ধোঁয়া ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ে। অধিকাংশ আবাসিকই ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা যান।
পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারি
-
লিজ়প্রাপক গ্রেফতার: মাসিক ৪০ হাজার টাকার চুক্তিতে স্ত্রী-র নামে হোটেল ‘শিখা ইন’ লিজ় নিয়েছিলেন জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা আবু জ়াফর। পুলিশ তাঁকে এন্টালি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে লালবাজারে নিয়ে আসে। আদালত তাঁকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তাঁর স্ত্রীর খোঁজে তল্লাশি চলছে।
-
অন্যান্য আটক: ঘটনার তদন্তে আরও দু’জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে কাছের হোটেল ‘যাপন’-এর কর্মীও রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ বাম-এবিভিপির মিছিল ঘিরে ধুন্ধুমার, রণক্ষেত্র যাদবপুর থানা চত্বর
প্রশাসনিক ও দমকলের কড়া ব্যবস্থা
-
কড়া শো-কজ় নোটিস: সুরক্ষাবিধি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের ৯টি গেস্ট হাউস ও ৪টি রেস্তোরাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর চেয়ে শো-কজ় নোটিস পাঠিয়েছে দমকল বিভাগ। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে সেগুলি সিল করে দেওয়া হবে।
-
অনিয়মের প্রশ্ন: দমকলের সদর দফতর থেকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড এবং পুরসভা কার্যালয়ের ১ কিলোমিটারের মধ্যে এত বড় অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে চলছিল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


