রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল ঘিরে এমন নিরাপত্তা আগে দেখা যায়নি। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আটক রাখার পর থেকেই আশঙ্কা বাড়ছিল; সাম্প্রতিক গোয়েন্দা সতর্কবার্তায় সেই আশঙ্কাই রূপ নিয়েছে বাস্তবের আতঙ্কে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য—এই জেল যে কোনও সময় বড় ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আর তাই মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকাকে ঘিরে ফেলা হয়েছে বহুবিধ নিরাপত্তা স্তরে।
আরও পড়ুনঃ পেটের টানে সবাই এক, বামেদের মিছিলে সামিল তৃণমূলের কর্মী
ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব পুলিশ দ্রুত গতিতে ২,৫০০ জন অতিরিক্ত সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে। দাহগাল এলাকা থেকে গোরখপুর জোন—মোট পাঁচটি কৌশলগত পয়েন্টে তৈরি হয়েছে নতুন নিরাপত্তা চেকপোস্ট। প্রতিটি ইউনিটকে দেওয়া হয়েছে বাস্তব গুলি, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস লঞ্চার, দাঙ্গা মোকাবিলার সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। সমস্ত নজরদারির দায়িত্ব পেয়েছেন এসপি আনাম শের—জেলের চারপাশে এক ইঞ্চিও তার তত্ত্বাবধানের বাইরে নয়।
কেবল আদিয়ালা জেল নয়—লাহোরের কট লখপত জেল, যেখানে বহু পিটিআই নেতা আটক, সেখানেও জারি করা হয়েছে উচ্চমাত্রার সতর্কতা। বালুচিস্তানের মাচ সেন্ট্রাল জেলেও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে নতুন হুমকি-ইনপুট পাওয়ার পর।
গোয়েন্দা সূত্রের আশঙ্কা—২ ডিসেম্বর থেকে পিটিআইয়ের ডাকা দেশব্যাপী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থীরা অথবা কোনও তৃতীয় শক্তি জেল আক্রমণের চেষ্টা করতে পারে। রাওয়ালপিন্ডি এবং লাহোর—উভয় শহরেই আত্মঘাতী হামলা থেকে বড়সড় নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ নোঙর করেছে ‘খঞ্জর’ ও ‘কোরা’, দু’দিনের জন্য সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হল সেই দুটি যুদ্ধজাহাজ
নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঘেরাটোপের মাঝেই পাকিস্তানের রাজপথে এবং সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
ইমরান খান এখন কোথায়? তিনি আদৌ কি নিরাপদ?
পিটিআইয়ের একাধিক সূত্র দাবি করছে, জেলের মধ্যে তাঁকে একাকী করে রাখা হয়েছে, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও তুলছে দল। পরিবার ও আইনজীবীর অভিযোগ—আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
সরকারি পক্ষ যদিও দাবি করছে যে ইমরান “সম্পূর্ণ নিরাপদ”, কিন্তু কোনও সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ, ভিডিও বা মেডিক্যাল রিপোর্ট এখনও সামনে আসেনি।
দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা, তিন প্রদেশে হাই-অ্যালার্ট, জেল ও আদালত ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে পাকিস্তানে অস্থিরতা। প্রশাসনের আশঙ্কা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মিলিট্যান্ট হুমকি এবং ইমরানের অবস্থান-সংক্রান্ত রহস্য—এই তিনের সংঘাতে যে কোনও মুহূর্তে পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে পারে।
এ মুহূর্তে আদিয়ালা জেল যেন এক সশস্ত্র দুর্গ—অস্ত্রসজ্জিত বাহিনী, ব্যারিকেড, ড্রোন নজরদারি এবং বহুস্তরীয় চেকপোস্টে ঘেরা।





