সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর সিঙ্গল বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। জমি দুর্নীতি ও তোলাবাজির মতো একাধিক গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত সুমিতের জামিনের আর্জি খারিজ করে দেওয়ায় আইনি টানাপোড়েন আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই সুমিত রায়কে খুঁজতে কয়েক সপ্তাহ আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে কাকভোরে হানা দিয়েছিল পুলিশ। এবার আদালতের এই রায়ের পর সুমিতের গ্রেফতারি এড়ানো কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘জ়িরো ডিলে’, আরও তৎপর লালবাজার, একগুচ্ছ নির্দেশ সিপি-র
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী থানায় সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে মূল মামলাটি দায়ের হয়েছিল। ওই মামলার প্রেক্ষিতেই এদিন হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানানো হয়। তবে শুনানির সময় বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত কড়া অবস্থান নেন। মামলার নথিপত্র খতিয়ে দেখে বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, এই ঘটনার পিছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং এর সাথে একাধিক ব্যক্তির যোগসূত্র স্পষ্ট। জানা গেছে, মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক ব্যক্তির কাছ থেকেই সরাসরি ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল।
তোলাবাজি ও প্রতারণার জাল কতটা গভীরে বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতেই সম্ভবত সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই আদালত তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দেয়।
আরও পড়ুনঃ উঁচু প্রতিমা তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা; দুর্গাপুজোর আগে কড়া নির্দেশ লালবাজারের
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ জমি দুর্নীতির মামলায় আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সুজয় হাজরাকে হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জেরা করার পরেই উঠে আসে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নাম। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে জমি দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলাবাজি করা হয়েছে। আর এই দুর্নীতির টাকার একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে খোদ সুমিতের বিরুদ্ধে।
আদালত সূত্রে খবর, সুজয় হাজরার বয়ান এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সুমিত রায়কে এই মামলার অন্যতম প্রধান চক্রী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সুমিত রায়ের খোঁজ পেতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হন্যে হয়ে ঘুরছে পুলিশ।
তদন্তের মাঝেই চাঞ্চল্যকর মোড় আসে যখন জানা যায়, শেষবারের মতো সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন মিলেছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির ঠিকানায়। এর পরেই আর দেরি না করে কাকভোরে বিশাল পুলিশ বাহিনী হানা দেয় তৃণমূল সাংসদের শান্তিনিকেতনের বাসভবনে। যদিও সেই সময় সুমিতের নাগাল পায়নি পুলিশ।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর সুমিত রায়ের সামনে এখন সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার রাস্তা খোলা রয়েছে। তবে পুলিশ যেভাবে সক্রিয় হয়েছে, তাতে যে কোনো মুহূর্তে অভিষেক-আপ্তসহায়কের গ্রেফতারির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


