শ্রমজীবী বিরোধী কেন্দ্রীয় নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের বেসরকারীকরণের প্রতিবাদে আগামী ১০ আগস্ট দেশজুড়ে ‘আইন অমান্য’ ও ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। যৌথ ট্রেড ইউনিয়ন (CITU-সহ), সংযুক্ত কিষান মোর্চা (SKM) এবং বস্তি ইউনিয়নগুলির যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদী লড়াই আয়োজিত হচ্ছে।
আন্দোলনের পটভূমি ও জাতীয় কনভেনশনের সিদ্ধান্ত
সম্প্রতি দিল্লির তালকোটরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় কনভেনশন থেকে এই সর্বভারতীয় আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।
-
কৃষক ও শ্রমিকের সমস্যা: পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক পরেশ পাল জানান, দেশে কৃষক ও শ্রমিকরা তাঁদের শ্রমের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস ও খাদ্যসামগ্রীর দাম আকাশছোঁয়া হলেও সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি।
-
সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকট এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, শাসক দল ধর্ম, জাতি ও ভাষার ভিত্তিতে মানুষের ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে।
-
মূল দাবি: শ্রমকোড বাতিল, ফসলের সর্বনিম্ন সহায়ক মূল্য (MSP) সুনিশ্চিত করা, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বেসরকারীকরণ বন্ধ করা এবং ১০০ দিনের কাজের বকেয়া প্রদান ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া।
আরও পড়ুনঃ ‘মরে যেতাম’! মমতার গাড়িতে ইট-চটি ছোড়ার অভিযোগ, উঠল ‘চোর’ স্লোগান
রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের নীল নকশা ও কলকাতার মিছিল
‘দেশ বাঁচাও, শ্রমজীবী মানুষ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে বিশাল প্রতিবাদের রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে:
-
কলকাতা কেন্দ্রিক মিছিল: আগামীকাল ১০ আগস্ট কলকাতার সুবোধ মল্লিক স্কয়ার থেকে রানি রাসমণি রোড পর্যন্ত একটি সুবিশাল প্রতিবাদী মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
-
জেলা স্তরে বিক্ষোভ: কলকাতার মূল কর্মসূচির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলা ও কেন্দ্রবিন্দুতে একযোগে বিক্ষোভ, ধরণা ও আইন অমান্য কর্মসূচি পালিত হবে।
আরও পড়ুনঃ “দুধ না খেলে হবে না ভালো ছেলে”; বাড়ছে দুধের দাম
ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বের কড়া বার্তা
ট্রেড ইউনিয়ন নেতা জিয়াউল আলম প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন:
“কেন্দ্রীয় শ্রমকোড চালু করে শ্রমিকদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে এবং ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষকরা ধুঁকছেন। ১০০ দিনের কাজের বিকল্প প্রকল্প এনে শ্রমজীবী মানুষের রুজি-রুটি অনিশ্চিত করে দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করে এই আসল সমস্যাগুলি ঢাকা দেওয়া যাবে না। ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১০ আগস্ট লক্ষ লক্ষ মানুষ রাজপথে নামবেন।”
আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে দল-মত নির্বিশেষে রাজ্যের সর্বস্তরের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


