বিশেষ প্রতিনিধি:
পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে সূচিত হতে চলেছে দেবীপক্ষ। রাত পোহালেই শুভ মহালয়া। শাস্ত্রীয় সনাতন রীতি মেনে পিতৃপুরুষের আত্মার শান্তি কামনায় গঙ্গার ঘাটে ঘাটে ভোরে ঢল নামবে লাখো পুণ্যার্থীর। এই পবিত্র সন্ধিক্ষণে অগণিত মানুষের সুবিধার্থে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কলকাতা, হাওড়া সহ গঙ্গার সমস্ত ঘাটে আঁটসাঁট নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে প্রশাসন।
দুর্ঘটনা এড়াতে জলে ভাসমান ব্যারিকেড থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবা কেন্দ্র চালু—সার্বিক প্রস্তুত প্রণালী খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
আরও পড়ুনঃ পরিবেশবান্ধব দুর্গাপুজো করলেই মিলবে ১ লক্ষ টাকা! বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার
দুর্ঘটনা এড়াতে ত্রিস্তরীয নিরাপত্তা ও নজরদারি
কলকাতা ও হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সমস্ত ঘাট চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
-
ভাসমান ব্যারিকেড ও ডুবুরি মোতায়েন: নদীর জলে বিপদসীমা চিহ্নিত করতে এবার বিশেষ ভাসমান ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। বিপদ এড়াতে প্রতিটি প্রধান ঘাটে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে প্রশিক্ষিত ডুবুরি, অসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবী, লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়, দড়ি এবং উদ্ধারকারী বোট।
-
বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী: কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়া জেলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে ২৪ ঘণ্টা টহল দেবে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)।
-
কন্ট্রোল রুম ও নোডাল অফিসার: কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার যৌথ উদ্যোগে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। নোডাল অফিসাররা সর্বক্ষণ নবান্নের জরুরি পরিষেবা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।
আরও পড়ুনঃ আজ থেকেই আবহাওয়ার উন্নতি, কাটছে দুর্যোগের মেঘ
পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক পরিষেবা: এক নজরে
পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে গঙ্গার প্রতিটি ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম, সিঁড়ি ও ঘাটে যাওয়ার রাস্তাগুলিতে পর্যাপ্ত পরিষেবা সুনিশ্চিত করা হয়েছে:
| পরিষেবা / সুবিধা | প্রশাসনিক উদ্যোগ ও প্রস্তুতি |
| পরিচ্ছন্নতা ও আবর্জনা | ভোর থেকে তর্পণ শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সাফাই কর্মী মোতায়েন। জমা পলি, ফুল ও বর্জ্য ফেলার জন্য ডাস্টবিন বাধ্যতাবাদ। |
| মহিলা ও সাধারণের সুবিধা | প্রতিটি ঘাটে পর্যাপ্ত বায়ো-টয়লেট এবং মহিলাদের জন্য পৃথক চেঞ্জিং রুমের (Changing Room) ব্যবস্থা। |
| আলো ও বিদ্যুৎ সংযোগ | ভোরের আলো ফোটার আগে পর্যন্ত ঘাট, সিঁড়ি, সংযোগকারী গলি ও পার্কিং জোনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলো। |
| স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা | কলকাতা পুরসভার অধীনে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প, সার্বক্ষণিক ডাক্তার ও জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। |
গঙ্গার প্রতিটি ঘাটে পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলাতে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক পুলিশের তরফেও একাধিক যান নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ভোর হতেই চণ্ডীপাঠ ও গঙ্গার জোয়ারের সাথে মুখরিত হয়ে উঠবে তর্পণের রাজপথ।


