তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ঋজু দত্তকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তৃণমূল। তবে ঋজু দত্ত এই সাসপেনশনকে ‘অন্যায়’ বলে দাবি করে জানিয়েছেন, তিনি সত্য কথা বলার কারণেই শাস্তি পেয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মাথা ফাটল ওসির, তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত তারকেশ্বর
রিজু তার এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে লিখেছেন “তৃণমূল কংগ্রেসে আমার যৌবনের ১৩টা বছর দিয়েছি। অক্লান্ত পরিশ্রম করে, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিজেকে প্রমাণ করেছি। আমি কোনো নেপো কিড নই। অথচ আমার প্রিয় দল আমাকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছে। কারণ? আমি সত্য কথা বলেছি।”তিনি আরও জানিয়েছেন, সাসপেনশন নোটিশে বলা হয়েছে তিনি ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে হাজির হননি।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি ৯ মে ২০২৬ সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে তৃণমূল ভবনে লিখিত জবাব জমা দিয়েছিলেন। ঋজু দত্তের অভিযোগ, সম্ভবত তাঁর জবাব না পড়েই নোটিশ তৈরি করা হয়েছে। পোস্টের শেষে তিনি লিখেছেন, “থ্যাঙ্ক ইউ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস! আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আই উইল বি ব্যাক! সি ইউ সুন!!”
ঋজু দত্ত দলের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে কাজ করেছেন এবং নিজের কর্মদক্ষতায় পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তাঁর এই সাসপেনশন খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলের অন্দরে এবং বাইরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখার একটি উদাহরণ এটি। অনেকেই বলছেন তৃণমূল ক্ষমতা থেকে সরে গিয়েও স্বৈরাচারী রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ অপেক্ষায় রাজ্যবাসী! দুর্নীতির ফাইল খুলবে তো
আবার কেউ কেউ বলছেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।ঋজু দত্তের সমর্থকরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে সাহসী বলে উল্লেখ করেছেন। একজন সমর্থক লিখেছেন, “১৩ বছরের নিষ্ঠার বিনিময়ে ৬ বছরের সাসপেনশন? এটা কোন ধরনের বিচার?” অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের মতে, দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখলে শাস্তি পেতেই হবে।


