বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক প্রাক্কালে রবিবার বঙ্গ রাজনীতির পারদ চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ থেকে হুগলীর হরিপাল, ঝোড়ো প্রচারের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের “জঙ্গলরাজ” খতম করার ডাক দিলেন তিনি। বনগাঁর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানান, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি মহিলাদের আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করতে বছরে ৩৬,০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে মোদী বলেন, “বাংলার মা-বোনেরা তৃণমূলের অপশাসনের সবথেকে বড় শিকার। এখানে মহিলারা নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন, আর সরকার অপরাধীদের আড়াল করছে।”
আরও পড়ুনঃ “বাংলা জিতবে”; খেলাটা আগেই অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলেছে?
“নবান্ন থেকে নয়, সরকার চলছে গুন্ডাদের অঙ্গুলিহেলনে“
বিকেলে হুগলীর হরিপালে আয়োজিত দ্বিতীয় জনসভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষায় তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের শাসনব্যবস্থা আজ নবান্ন (রাজ্য সচিবালয়) থেকে নয়, বরং তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের ডেরা থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। মোদী বলেন, “তৃণমূলের এই ‘নির্মম’ সরকার এতটাই অরাজকতা তৈরি করেছে যে, বারবার হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হচ্ছে।” তাঁর দাবি, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূলের অহংকার চূর্ণ হয়েছে এবং দ্বিতীয় দফায় বিজেপির জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গে যোগীর দোর্দণ্ডপ্রতাপ ‘সিংঘম’! সেনাপতি গড়ে এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট পাঠাল কমিশন
মতুয়া গড়ে মোদী ও উত্তর কলকাতায় গ্র্যান্ড রোড-শো
এদিন বনগাঁর ঠাকুরনগরে মতুয়া মহাসংঘের সদর দপ্তরে গিয়ে হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দেন প্রধানমন্ত্রী। মতুয়া সম্প্রদায়ের আশীর্বাদ চেয়ে তিনি তৃণমূলের “ভয়ের রাজনীতি”র বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। দিনের শেষে উত্তর কলকাতায় এক বর্ণাঢ্য রোড-শো করেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিয়ে বাংলার মানুষের মঙ্গলকামনা করেন তিনি। শহর কলকাতার রাজপথে মোদীর এই মিছিলে মানুষের ঢল নামে, যা আদতে বিজেপির শক্তি প্রদর্শন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



