ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বন্ধুত্বে কি এবার বড় ফাটল? কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, দুই রাষ্ট্রনেতার বন্ধুত্বে নাকি মরচে পড়েছে। তিন মাস আগে যে যুদ্ধ ইরানের বিরুদ্ধে তাঁরা শুরু করেছিলেন, এবার সেই যুদ্ধ নিয়েই দুই রাষ্ট্রনেতার মতবিরোধ। ট্রাম্প চাইছেন ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথে গিয়ে চুক্তি সাক্ষর করতে। কিন্তু, তাতে ঠিক সায় নেই ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্চামিন নেতানিয়াহু-র। সম্প্রতি, ফোনে কথা বলার সময় দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য-বিনিময় হয়। সেই নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। এবার তো আরও এক ধাপ ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। নেতানিয়াহুকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুনঃ জল্পনা তুঙ্গে! ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কি পদত্যাগ করলেন?
নেতানিয়াহু-কে পাগল বললেন ট্রাম্প
সম্প্রতি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনে কথা হয়। দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। অ্যাক্সিওসের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সূত্র মারফত খবর ফোনে আলোচনার সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে পাগল বলে সম্বোধন করেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দুর্নীতির মামলাসহ একাধিক রাজনৈতিক ও আইনি সঙ্কট থেকে নেতানিয়াহুকে রক্ষা করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
মার্কিন প্রশাসনের এক আধিকারিক এই ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প নাকি নেতানিয়াহুকে বলেন, “তুমি একেবারে পাগল হয়ে গিয়েছ। আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে। আমি তোমাকে বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এই ঘটনার জন্য সবাই ইজরায়েলকেও ঘৃণা করছে।” আরও এক সূত্রের দাবি, ফোনালাপের সময় ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি চিৎকার করে নেতানিয়াহুকে প্রশ্নও করেন, “আসলে কী করতে চাইছ?”
আরও পড়ুনঃ বামেদের সঙ্গে দোস্তিই হল কাল! শুভেন্দু সরকারে ঠাই হল না রুপা, রুদ্রনীলের
কেন ইজ়রায়েলের উপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইরানের সঙ্গে চলা আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবাননে বারবার ইজ়রায়েলের হামলা। এর আগে লেবাননের উপর হামলা অব্যাহত রাখায় আলোচনার টেবিল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। এরপর ট্রাম্প নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি জানান, ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তারপরেও দেখা গিয়েছে, লেবাননের উপর হামলা চালানো বন্ধ করেনি ইজ়রায়েল।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরও নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দেন, হিজ়বুল্লাহ হামলা বন্ধ না করলে বৈরুতে ‘সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে হামলা চালাবে ইজরায়েল। জানিয়ে দেন, এই বিষয়ে তাঁদের অবস্থান একই রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে যাবে আইডিএফ। অন্যদিকে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান-আমেরিকার মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে।



