আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
উত্তর আফ্রিকার মরক্কো সীমান্তে অবস্থিত স্পেনীয় শহর সেউতায় (Ceuta) সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব সীমান্ত সংকট। বৃহস্পতিবার মরক্কোর সীমানা পেরিয়ে সমুদ্রে সাঁতরে ও কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে হাজার হাজার অভিবাসী একযোগে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই বিশৃঙ্খলা ও অনুপ্রবেশের সময় সমুদ্রে ডুবে অন্তত ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
সমুদ্র পেরিয়ে অভিবাসীদের ঢল
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভিডিয়োতে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষের একটি বিশাল দল তারাজল সমুদ্রসৈকতের ব্রেকওয়াটার (ঢেউ-প্রতিরোধক বাঁধ) টপকে সেউতার শহরের ভেতরের দিকে ছুটে আসছেন। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে সিংহভাগ তরুণ হলেও প্রচুর নারী ও শিশুদের নিয়ে পুরো পরিবারকে সীমান্ত পার হতে দেখা যায়। সেউতায় প্রবেশের সময় অভিবাসীদের অনেকেই ‘ভিভা এস্পানিয়া’ (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান তোলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন ও প্রধানমন্ত্রীর সফর
অভিবাসীদের এই হঠাৎ ঢলে স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ‘স্প্যানিশ সিভিল গার্ড’-এর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
-
সেউতার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জরুরি আবেদনের ভিত্তিতে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার (মাদ্রিদ) সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র সেনাবাহিনী (Armed Forces) মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
-
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সাঞ্চেজ় (Pedro Sánchez) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে শুক্রবারই সেউতা সফরে যাচ্ছেন।
মৃত্যু ও কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন
সেউতায় স্পেন সরকারের প্রতিনিধিদল নিশ্চিত করেছে যে, জলে ভাসমান অবস্থায় ন’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, মরক্কোর ফনিদেক বা বেলইউনেশ উপকূল থেকে সাঁতার কেটে সেউতায় আসার পথে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রপথে ডুবে গিয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মঙ্গলের হারানো চাঁদের রহস্য! শিলাস্তরে মিলল জোয়ার-ভাটার প্রমাণ, নিশ্চিত করছেন বিজ্ঞানীরা
মরক্কো সরকারের অবস্থান ও যৌথ পদক্ষেপ
মরক্কো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও, স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে পরিস্থিতি সামলাতে মরক্কোর পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে এবং হাজার হাজার মানুষকে সীমান্তে আটকে দিচ্ছে। একই সঙ্গে, অবৈধভাবে প্রবেশ করা সমস্ত অভিবাসীদের দ্রুত মরক্কোতে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
উন্নত জীবনের সন্ধান ও নিজ দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য সেউতা দীর্ঘদিন ধরেই একটি অন্যতম প্রধান রুট। এই সাম্প্রতিক ভয়াবহ দৃশ্য ২০২১ সালের মে মাসের সেউতা সীমান্ত সংকটের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৮,০০০-এর বেশি মানুষ একইভাবে সীমান্ত টপকে স্পেনে প্রবেশ করেছিলেন।


