নয়াদিল্লি:
দেশের পরীক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং ‘প্রশ্ন মাফিয়া’দের দাপট রুখতে চরম কঠোর পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হলো ‘পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ (Public Examination Prevention of Unfair Means Amendment Bill, 2026)। বুধ ও বৃহস্পতিবার যথাক্রমে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় বিলটি গৃহীত হওয়ার পর এটিকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে এক “ঐতিহাসিক মোড়” বলে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আরও পড়ুনঃ বিজেপিতে যোগদান করছেন অভিজিৎ!
সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তা ও প্রধানমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি: বিলটি দুই কক্ষে পাস হওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, কয়েক দশক ধরে চলা প্রশ্নফাঁসের এই ব্যাধিতে কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানান:
“যে সমস্ত ‘প্রশ্ন মাফিয়া’ দেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে, তাদের কোনওভাবেই ক্ষমা করা হবে না। এদের কঠোর হাতে শায়েস্তা করতেই এই কড়া আইনের প্রয়োজন ছিল। আমাদের কাজ এখানেই থামবে না, এই ধরণের অন্যায় আমরা আর চলতে দেব না।”
আইনে কঠোর শাস্তির বিধান: পরীক্ষায় যেকোনো ধরণের জালিয়াতি, অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁস রুখতে এই নতুন বিলে অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে:
-
ব্যক্তিগত অপরাধের ক্ষেত্রে: প্রশ্নফাঁস বা অসাধু উপায়ে যুক্ত থাকার অপরাধে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
-
সংগঠিত চক্র বা গ্যাং-এর ক্ষেত্রে: যদি কোনো সংগঠিত বড় চক্র বা গ্যাং এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে কম করে ৭ বছরের জেল এবং ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার কড়া শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শ্রাবণের মেঘে দেবী দুর্গার আবাহন, ৩০০ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে কালনায় শুরু মহিষমর্দিনী পুজো
প্রযুক্তির ব্যবহার ও রাজ্যগুলির পরামর্শ: প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য—সব সরকারকেই এতদিন এই কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে এখন পরীক্ষাব্যবস্থাকে নিখুঁত ও সহজ করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের পাঠানো গঠনমূলক পরামর্শগুলিকেও সংস্কার প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিরোধী শিবিরের একাংশের ওয়াকআউটের মাঝেই বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়। এই আইন বলবৎ হওয়ার পর দেশজুড়ে কোটি কোটি পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীর সুরক্ষা সুনিশ্চিত হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।


