আগামীকাল, সোমবার থেকে লাগু হচ্ছে সংশোধিত জিএসটি। নতুন জিএসটি সংস্কার অনুযায়ী আগের চারটি স্তর বাদ দিয়ে এবার থেকে দুই স্তরের ব্যবস্থা চালু হবে। পুজোর আগে নিত্য প্রয়োজনীয় একাধিক জিনিসের দাম কমবে। সেই নিয়েই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন মোদী।
আরও পড়ুনঃ কুলতলিতে দুই বাম দলে ভাঙ্গন! তৃণমূলে বিরাট যোগদান
বললেন তিনি
- উৎসবের এই মরশুমে সকলের মুখ মিষ্টি হবে, পরিবারে খুশি আসবে
- কোটি কোটি পরিবারকে অভিনন্দন এই অর্থ বাঁচানোর উৎসবে
- এই সংস্করণ ভারতের উন্নয়নের যাত্রাকে আরও তরান্বিত করবে, সমস্ত রাজ্যের বিকাশ হবে
- ২০১৭ সালে জিএসটি নিয়ে যখন কাজ শুরু হয়েছিল তখন নতুন ইতিহাস গড়েছিল দেশ
- সবাই একাধিক ট্যাক্সের জালে ফেঁসেছিলেন। না জানি কত ট্যাক্স ছিল, একটা শহর থেকে অন্য শহরে জিনিস পাঠাতে গেলেও কত না ফর্ম ভরতে হত, কত চেকপোস্ট পার করতে হত, নাজেহাল হয়ে যেতেন সকলে।
- আমার মনে আছে দেশবাসী যখন আমাকে ২০১৪ সালে দায়িত্ব দেয়, তখন এক বিদেশী খবরের কাগজে একটা প্রতিবেদন বেরয়েছিল, একটা কোম্পানির সমস্যা নিয়ে কথা বলা হয়েছিল। সেখানে ট্যাক্সের সমস্যার কথা উঠে আসে। খুবই কঠিন ছিল পুরো বিষয়টা।
- এই সমস্ত খরচ আদতে গরিবদের পকেট থেকে যেত। দেশকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করার খুবই দরকার ছিল। তাই আপনারা যখন আমাকে ২০১৪ সালে সুযোগ দিলেন, আমরা সকলের সুবিধার্থে জিএসটি নিয়ে আসি।
- স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা হয়, সমস্ত রাজ্যের প্রধানদের সঙ্গে কথা হয়। একাধিক পর্যায়ে আলোচনার পর জিএসটি চালু করা সম্ভব হয়েছিল। কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ প্রয়াস ছিল। এখন গোটা দেশ ওয়ান নেশন ওয়ান ট্যাক্সের স্বপ্ন পূরণ হয়।
- রিফর্ম তো করতেই হয়, সময় বদলায়, দেশের প্রয়োজন বদলায়, সংস্করণও তাই প্রয়োজন হয়। দেশের বর্তমানে কী প্রয়োজন, ভবিষ্যত কীসে উন্নত হবে, তা মাথায় রেখে এই সংস্করণ লাগু হবে।
- এখন শুধু ৫ ও ১৮ শতাংশই ট্যাক্স থাকবে। সস্তা হবে রোজকার জিনিস। ব্রাশ, পেস্ট, সাবান, জীবন বীমা-সহ একাধিক জিনিস হয় ট্যাক্স ফ্রি হবে নাহয় মাত্র ৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হবে।
- গত ১১ বছরে দেশে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
- এই সাল সরকার ১২ লাখ টাকা আয় পর্যন্ত ইনকাম ট্যাক্সে মুক্তি দিয়েছে। এটা উপহার সরকারের। এমন হলে মধ্যবিত্তের জীবনে বিরাট পরিবর্তন আসার কথা। এবার গরিব মানুষদের সময়।
- দেশবাসী এখন স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে আগের চেয়ে তাড়াতাড়ি। গাড়ি থেকে জিনিস, ঘর বানানো থেকে শখ পূরণ, ভ্রমণ থেকে খাওয়া দাওয়া, সবই তো সস্তা হচ্ছে। হোটেলের খরচাও কমছে।
- আমি বিশ্বাস করি দোকানদার ভাই-বোনেরাও এই জিএসটি সংস্করণ নিয়ে খুবই খুশি।
- আমরা মনে করি, নাগরিক দেব ভব। যেভাবে আমরা এগোচ্ছি এই কথা আমাদের এই সংস্করণের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। দেড় লক্ষ কোটি টাকা বাঁচবে এক বছরে দেশবাসীর।
- বিকশিত ভারতের জন্য আত্মনির্ভর হতেই হবে। আর ভারতকে আত্মনির্ভর বানানোর দায়িত্ব এমএসএমই-গুলোর ওপর আছে। দেশে যা যা বানাতে পারি, তা দেশেই বানানো উচিত। জিএসটি কম হওয়ায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষজনের বিরাট লাভ হবে। বিক্রি বাড়বে, এদিকে ট্যাক্স কম দিতে হবে।
- যখন ভারত সম্বৃদ্ধির শিখরে ছিল, তখন ভারতের অর্থ ব্যবস্থার পিলার কিন্তু ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পই ছিল। তখন দেশে তৈরি জিনিসের গুণমান খুবই ভাল ছিল। সেই গৌরবকে ফিরে পেতে হবে।
- বিশ্বের সবচেয়ে উন্নতমানের জিনিস তৈরি করতে হবে। বিশ্বের সবচেয়ে ভাল। যাতে এই জিনিসপত্র ভারতের গৌরব বাড়ায়।
- স্বদেশি মন্ত্রে শক্তি আনতে হবে।
- আমাদের কাছে কোনটা দেশি কোনটা বিদেশি প্রোডাক্ট আছে জানিই না। এমন হলে চলবে না। আমাদের জানতে হবে। দেশে তৈরি জিনিস ব্যবহার করতে হবে। স্বদেশি জিনিস গর্বের সঙ্গে কিনতে ও ব্যবহার করতে হবে। এমনকি বিক্রিও করতে হবে। এটা প্রত্যেক ভারতীয়কে বুঝতে হবে ও লাগু করতে হবে।
- আমি সমস্ত রাজ্য সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি, আত্মনির্ভর ভারতের এই অভিযানে সামিল হোন, উৎসাহ নিয়ে নিজের নিজের এলাকায় শিল্প বাড়ান। সবাই এগিয়ে এলে স্বপ্ন পূরণ হবে। রাজ্যের উন্নতি হবে, দেশের তো হবেই।
- আমি সকলকে আবারও অর্থ সাশ্রয় উৎসব ও নবরাত্রির শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।



