দীপাবলি-কালীপুজোর পরদিন সকালেই দুর্ঘটনা! ব্যারাকপুরের নীলগঞ্জ রোডে একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। মুহূর্তে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ২০টি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ।
জানা গেছে, এদিন ভোর ৫টা নাগাদ কারখানার ভিতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের ফুলকি চোখে পড়ে, যা নিমেষেই ভয়াবহ রূপ নেয়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে নীলগঞ্জ রোডের ওই রাসায়নিক কারখানা। খবর দেওয়া হয় দমকলে।
প্রাথমিকভাবে ২-৩টি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে তা নেভাতে পরে মোট ২০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের গেঞ্জি ও ব্যাটারি কারখানাতেও। সব মিলিয়ে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
দমকল সূত্রে খবর, কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল, তাই আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেছে বলেই অনুমান। তবে কী থেকে আগুন লাগল তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে, তবে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার সময় কেউ কারাখানার ভিতরে ছিলেন কিনা তাও এখনও স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।
ঘটনাস্থলে পৌঁছন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের সিপি। তিনি জানান, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে সব পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে।’ কারখানায় মজুত সামগ্রীগুলি বেআইনি কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
আরও একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে। জানা গেছে, বাজি ফাটাতে গিয়েই বিপত্তি! পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে গোটা কাপড়ের দোকান। বাজি পোড়ানোর সময় আগুনের ফুলকি থেকেই কাপড়ের দোকানে আগুন লেগে যায়। স্থানীয়রাই আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান, কিন্তু তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল সমগ্র দোকানের সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, কালীপুজোর রাতে হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় তিনটি দোকান আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিসভা চত্বরে একটি দোতলা বাড়ির নিচে ছিল কয়েকটি দোকান – একটি মুদিখানা, একটি ইলেকট্রিক সামগ্রীর দোকান এবং একটি মোবাইলের দোকান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হঠাৎই এক দোকানে আগুন লেগে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। মুদিখানা ও ইলেকট্রিক দোকান দু’টি পুরোপুরি পুড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই মুদিখানার আড়ালে অবৈধভাবে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি হত। সেই কারণেই আগুন এত দ্রুত ছড়ায় বলে তাঁদের দাবি। তবে দমকলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগুনের উৎস এখনই নিশ্চিত নয়। মোমবাতি, প্রদীপের শিখা থেকে, নাকি শর্ট সার্কিটের কারণে এই দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





