দীপাবলির রাতে আচমকা ঢুকে পড়েছিল ‘অতিথি’, চারপেয়ে। চলন্ত মেট্রোর কামরায় পথ কুকুর দেখে চমকে উঠেছিলেন যাত্রীরা। আতঙ্ক, হুড়োহুড়ি, চেঁচামেচি—সব মিলে তখন চাপে পড়েছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। দাবি করা হয়েছিল, “বিচ্ছিন্ন ঘটনা!” তবে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা বলছে, বিচ্ছিন্ন নয়, এ যেন নিত্য স্বাভাবিক!
গত ৯ অক্টোবর, দক্ষিণেশ্বর-শহিদ ক্ষুদিরামগামী মেট্রোর কামরায় দেখা গিয়েছিল আরও অদ্ভুত দৃশ্য। এক ব্যক্তি হেলমেট পরে, কম্বল মুড়িয়ে দিব্যি কামরায় শুয়ে ঘুমোচ্ছেন। সঙ্গে রয়েছে দুটি থলি আর একটি পিঠ ব্যাগ। দেখে মনে হচ্ছিল, যেন বাড়ির ড্রয়িং রুমে দিবানিদ্রায় গিয়েছেন তিনি!
আরও পড়ুনঃ রেকর্ড দেশি মদের চাহিদা! মেদিনীপুরে ৭ কোটির বেশি মদ-বিয়ার বিক্রি
যাত্রীদের একাংশ বলছেন, এমন দৃশ্য লোকাল ট্রেনে প্রায়শই দেখা যায়, কিন্তু কলকাতা মেট্রোয়?
হেলমেট পরে মুখ ঢেকে রাখা অবস্থায় কোনও যাত্রী যদি হঠাৎ অন্য কারও উপর চড়াও হন, তাহলে কীভাবে শনাক্ত করা যাবে? CCTV-তে মুখই যখন নেই, শনাক্তই বা কী করে হবে?
ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়ায় কামরায়। নোয়াপাড়া স্টেশনে ওই যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়, যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে। কিন্তু ততক্ষণে উঠে গিয়েছে গুরুতর প্রশ্ন—এই হেলমেটধারী কামরায় ঢুকলেন কীভাবে?
মেট্রোর প্রতিটি প্রবেশপথে রয়েছে স্ক্যানার, নিরাপত্তারক্ষী, তল্লাশি ব্যবস্থা। তবু হেলমেট পরে এক ব্যক্তি কীভাবে ঢুকে পড়লেন চলন্ত ট্রেনে? নজরদারি কতটা কাজ করছে, সে নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ আর কত মিথ্যা বলবে পাকিস্তান? অনলাইনে ‘জিহাদি শিক্ষা’ চালু করছে জইশ!
রীতিমতো ক্ষুব্ধ যাত্রীদের একজন বলেন, “এবার মেট্রোতে উঠতে গেলে নিজের হেলমেট সঙ্গে রাখতে হবে মনে হচ্ছে!”
শুধু নিরাপত্তা নয়, যাত্রীদের ক্ষোভ রয়েছে পরিষেবা নিয়েও। বহু স্টেশনে নেই পর্যাপ্ত পানীয় জল। অনেক স্টেশনে এস্কেলেটর বিকল, লিফট খারাপ। সময়মতো ট্রেন চলে না, হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় ফিডার রুট।
নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, “কলকাতা মেট্রো এখন আর সেই আগের মতো নেই। শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিষেবা—সব তলানিতে।”
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মেট্রো রেলের কোনও অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। প্রশ্ন কিন্তু একটা থেকেই যায়, কলকাতা মেট্রো কি আর যাত্রীদের জন্য নিরাপদ?
যাত্রীদের কথায়, “আজ কুকুর, কাল হেলমেটধারী… এরপর কী?”





