বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, চরমপন্থী বক্তব্য ও সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার পটভূমিতে ভারতের কূটনৈতিক পদক্ষেপ এখন নতুন দিক নির্দেশ করছে। ঠিক ১৯৭১ সালের ঘটনাপ্রবাহের মতোই, দিল্লি আবারও বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে নিজের অবস্থান সুনিশ্চিত করছে। রাশিয়ার স্টেট ডুমা ইতিমধ্যেই ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতা চুক্তি (RELOS) অনুমোদন করেছে, যা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দিল্লি সফরের আগেই দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুন স্তরে তুলে দিল।
আরও পড়ুনঃ তুমুল হইচই আমেরিকায়! ক্যালিফোর্নিয়ায় আছড়ে পড়ল যুদ্ধবিমান
এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও রাশিয়া একে অপরের সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, নৌবন্দর ও লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে। দুই দেশের যুদ্ধজাহাজ, বিমান, সাবমেরিন এবং সামরিক ইউনিটগুলো আরও দ্রুত ও সমন্বিতভাবে মোতায়েন হওয়ার সুযোগ পাবে। রাশিয়ার সরকারি মন্তব্যে এটিকে “কৌশলগত ও ব্যাপক সম্পর্কের একটি নতুন ভিত্তি” বলা হয়েছে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা দেবে।
এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে উপমহাদেশের রাজনৈতিক উত্তাপে। বাংলাদেশে সম্প্রতি কিছু প্রভাবশালী মহল ভারতবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। এমন মন্তব্য এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দিল্লিকে আরও সতর্ক করেছে। ভারত সীমান্তজুড়ে নজরদারি ও সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। বিশেষত সিলিগুড়ি করিডোর অঞ্চলে মিসাইল শিল্ড, রাডার নেটওয়ার্ক এবং নতুন অবকাঠামো উন্নয়ন পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরছে।
আরও পড়ুনঃ চমক দিল বামেরা, দিল্লি পুর নিগম উপনির্বাচনে ১২ আসনের মধ্যে ৭টিতে জয় বিজেপির
১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে করা নিরাপত্তা চুক্তি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে দৃঢ় করেছিল। আজকের RELOS অনেকের কাছেই সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের আধুনিক সংস্করণ হিসেবে উঠে আসছে। আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হওয়ায় দিল্লি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের পথ ধরে ভারতের স্বার্থবিরোধী অবস্থানে যায়, তাহলে দিল্লির প্রতিক্রিয়া অতীতের মতো নরম হবে না।
ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতের যে কোনো পরিস্থিতির জন্য দিল্লি প্রস্তুত। ভারত এখন শুধু প্রতিবেশী সম্পর্ক নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। পুতিনের সফর এবং RELOS চুক্তির বাস্তবায়ন দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন পথে পরিচালিত করতে পারে।









