সোমবার সকাল থেকেই জল্পনা চলছিল, তৃণমূলের বহিস্কৃত দুই কর্মী রাজন্যা হালদার এবং প্রান্তিক চক্রবর্তী বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। কিন্তু এই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন বিজেপি নেতা এবং আইনজীবি তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি বলেন, বিজেপি একটা আবেগ।
আরও পড়ুনঃ মদ্ভাগবত গীতার সৃষ্টি ১৭৮৫ সালে! অবাক হলেন? ইতিহাস বড় নির্মম
এই দলে নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যাক্তির জায়গা নেই। এর সাপেক্ষে তরুণজ্যোতি একটি FIR কপি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রকাশ করেছেন এবং সেখানে স্পষ্ট করে নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে প্রান্তিকের নাম।
তরুণজ্যোতি লেখেন, “ভারতীয় জনতা পার্টি একটা পরিবার। এই পরিবারে কর্মীদের আবেগের থেকে বড় কিছু নেই। যারা দশকের পর দশক ভালোবেসে এই দলটা তৈরি করেছে, যারা নিজেদের সবকিছু বাজি রেখে পরিবর্তনের লড়াই করছেন তাদের আত্মসম্মানকে আঘাত করার মতো সিদ্ধান্ত কখনও নেবে না বিজেপি।”
তিনি আরও জানান, সোমবারই তিনজন সমাজে প্রভাবশালী এবং শিক্ষিত ব্যক্তি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন যাদের মধ্যে দুজন অধ্যাপক এবং একজন প্রাক্তন পুলিশ কর্মী , যাদের সমাজে প্রকৃত অবদান রয়েছে। “এই দলটা যাদের অবদান আছে তাদের সম্মান দিতে জানে। কিন্তু যাদের অবদান নিয়োগ দুর্নীতিতে তাদের জায়গা বিজেপিতে নয়,” স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন তিনি।
রাজন্যা ও প্রান্তিকের যোগদান নিয়ে যে মিথ্যা প্রচার চলছে, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি নেতা। তাঁর কথায় “সকাল থেকে দেখলাম কিছু মিডিয়া এঁদের যোগদান করিয়ে প্রার্থীও বানিয়ে দিল! এরকম ভুয়া খবর ছড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে।” তরুণজ্যোতি আরও বলেন, তৃণমূলের বহু কর্মী যারা একসময় ভালো কিছু দেখবে বলে দলের জন্য নিজের জীবন-যৌবন খাটিয়েছিলেন, এখন তাঁরা সত্য বুঝে বিজেপির সঙ্গে লড়াই করতে চাইছেন। তাঁদের স্বাগত জানানো হবে কিন্তু শর্ত একটাই: দুর্নীতির সঙ্গে নাম যেন জড়িত না থাকে।
এছাড়া শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরেও যে ‘ইচ্ছে করে বিতর্ক’ তোলা হচ্ছে, সে বিষয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তরুণজ্যোতি বলেন “সব জায়গায় শুভেন্দু অধিকারীর নাম জড়ানো বন্ধ হোক। সিনিয়র নেতৃত্বের আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে এইসব ‘বেকার লোকজনকে’ যোগদান করানোর সময় নেই,”। শেষে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক সূত্রকে সতর্ক করে তিনি লেখেন “আপনারা যেসব খবর ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়াচ্ছেন, তাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাচাই না করে এ ধরনের মিথ্যা প্রচার করবেন না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তা স্পষ্ট বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘ক্লিন ইমেজ’ ধরে রাখতে যে কোনও মূল্য চুকাতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে শাসকদলের অসন্তুষ্টদের মধ্যে ‘যোগ্য’দের দলে টানা হলেও দুর্নীতিতে জড়িত কেউ প্রবেশ করতে পারবে না এই বার্তা রাজন্যা ও প্রান্তিকের মতো বহু ‘সম্ভাব্য যোগদানকারীর’ জন্য একটি স্পষ্ট সিগন্যাল।









